প্রথম পাতা খবর ‘যারা অপরাধীদের গলায় মালা পরিয়ে দেয়  দলের সঙ্গে লডছেন’! নির্যাতিতার মা প্রার্থী হওয়ায় কড়া বার্তা জুনিয়র ডাক্তার সংগঠনের

‘যারা অপরাধীদের গলায় মালা পরিয়ে দেয়  দলের সঙ্গে লডছেন’! নির্যাতিতার মা প্রার্থী হওয়ায় কড়া বার্তা জুনিয়র ডাক্তার সংগঠনের

12 views
A+A-
Reset

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের নারকীয় ঘটনার পর ফের রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে নির্যাতিতার পরিবার। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে নির্যাতিতার মা-কে প্রার্থী করেছে বিজেপি। তিনি লড়বেন সেই পানিহাটি কেন্দ্র থেকেই, যেখানে নির্যাতিতা থাকতেন। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে নানা মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট। সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংগঠন জানায়, কোনও ব্যক্তি কোন রাজনৈতিক দলের হয়ে নির্বাচনে দাঁড়াবেন, তা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। এই বিষয়ে সংগঠনের সমর্থন বা আপত্তি থাকার প্রশ্ন ওঠে না।

তবে একইসঙ্গে সংগঠনের তরফে তীব্র সমালোচনাও শোনা গেছে। বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, নির্যাতিতার মা এমন একটি দলের হয়ে প্রার্থী হচ্ছেন, যাদের বিরুদ্ধে অতীতে নারী নির্যাতনের ঘটনাকে ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে এবং বহু ক্ষেত্রে অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী নেতাদের ভূমিকা নিয়ে। সেই কারণে রাজনৈতিকভাবে বিচার পাওয়ার ধারণাকে ‘সোনার পাথরবাটি’র সঙ্গে তুলনা করেছে সংগঠন।

জুনিয়র ডাক্তারদের সংগঠন আরও জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ৬ অগস্টের ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ন্যায়বিচারের প্রশ্ন এখনও অমীমাংসিত। তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সংস্থার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তারা। এই পরিস্থিতিতে নির্যাতিতার মায়ের প্রার্থী হওয়া নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে বলেই মত সংগঠনের।

তবে সংগঠন এটাও স্বীকার করেছে যে, একজন সন্তানহীনা মায়ের অসহায়তার জায়গা বোঝা সহজ নয়। বিবৃতিতে সমাজমাধ্যমে ব্যক্তিগত আক্রমণ থেকে বিরত থাকার আবেদনও জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে বলা হয়েছে, এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে একজন মানুষ মনে করতে পারেন, ক্ষমতার কেন্দ্রের কাছে না গেলে বিচার পাওয়া সম্ভব নয়—এটাই এই ব্যবস্থার ব্যর্থতা।

এদিকে নির্যাতিতার পরিবার থেকে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ওঠা ‘স্বার্থসিদ্ধির’ অভিযোগেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সংগঠন। তাদের বক্তব্য, এই আন্দোলন ছিল সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ, যেখানে বহু মানুষ ব্যক্তিগত স্বার্থ ভুলে ন্যায়বিচারের দাবিতে পথে নেমেছিলেন। সংগঠনের দাবি, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রুখতে প্রশাসনিক ও কাঠামোগত পরিবর্তন জরুরি। সেই লক্ষ্যেই আন্দোলন হয়েছিল এবং এখনও সেই দাবিই বহাল রয়েছে।

আরও খবর

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.