প্রথম পাতা খবর ‘১৩ বছরেও টিকিট পাইনি’, ক্ষোভ উগরে আবেদন রিঙ্কুর—বার্তা দিলেন দিলীপও?

‘১৩ বছরেও টিকিট পাইনি’, ক্ষোভ উগরে আবেদন রিঙ্কুর—বার্তা দিলেন দিলীপও?

10 views
A+A-
Reset

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির অন্দরেই শুরু হয়েছে জোর তৎপরতা। প্রার্থী হতে চেয়ে দলীয় নেতৃত্বের কাছে আবেদন জমা দিয়েছেন খড়্গপুরের প্রাক্তন বিধায়ক ও প্রাক্তন সাংসদ দিলীপ ঘোষ-এর স্ত্রী রিঙ্কু মজুমদার। ইতিমধ্যেই নিজের বায়োডেটাও জমা দিয়েছেন তিনি।

এই প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এতে অস্বাভাবিক কিছু নেই। তাঁর কথায়, ‘‘উনি তো আমার চেয়েও পুরনো কর্মী। আমি এমপি-এমএলএ হয়ে গেলাম। ওঁরও হওয়ার ইচ্ছা আছে।’’

দল সূত্রে খবর, বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বহু কর্মীই প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ জানিয়ে বায়োডেটা জমা দিচ্ছেন। সেই নিয়ম মেনেই আবেদন করেছেন রিঙ্কু। দিলীপের মন্তব্য, ‘‘পার্টিতে হাজার হাজার কর্মী তাঁদের আবেদন জমা দিয়েছেন। যে কেউ এটা দিতে পারে। পার্টিই ঠিক করুক কাকে কোথায় প্রার্থী করবে।’’

তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, এই আবেদন ঘিরে দলীয় নেতৃত্বের প্রতিও একটি বার্তা রয়েছে।

‘১৩ বছরেও টিকিট পাইনি’

বায়োডেটা জমা দেওয়ার প্রসঙ্গে রিঙ্কু মজুমদার দলের একাংশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি, তিনি ১৩ বছর ধরে বিজেপির সঙ্গে যুক্ত। দিলীপ ঘোষের সঙ্গে পরিচয়ের আগেই তিনি দলের কর্মী ছিলেন। বর্তমানে তিনি দলের মহিলা মোর্চার নেত্রী।

তাঁর প্রশ্ন, এত বছরেও অন্তত পঞ্চায়েত নির্বাচনেও কেন তাঁকে টিকিট দেওয়া হয়নি? রিঙ্কুর কথায়,
“নেতৃত্ব ভাববেন তাঁরা কী করবেন। ১৩ বছরে আমাকে অন্তত পঞ্চায়েতেও তো টিকিট দেওয়া উচিত ছিল। যদি আমার বিয়ে না-ও হত, আমি পার্টি করতাম। এতগুলো বছর ধরে দমিয়ে রাখা হয়েছে। এখনও তা-ই হবে। আমি এ বার আর এটা মেনে নেব না।”

দিলীপের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে খড়্গপুর থেকে জয়ী হয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ। পরে ২০১৯ সালে মেদিনীপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন। তবে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তাঁকে পছন্দের কেন্দ্র থেকে সরিয়ে বর্ধমান-দুর্গাপুরে প্রার্থী করা হয়। সেখানে তিনি তৃণমূল প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। সেই সময় দলীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁর গলায় ক্ষোভের সুর শোনা গিয়েছিল।

সম্প্রতি আবার সক্রিয় রাজনীতিতে দেখা যাচ্ছে দিলীপকে। তাঁকে ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী করা হবে কি না, তা নিয়ে জল্পনা চলছিল। এর মধ্যেই রিঙ্কু মজুমদারের আবেদন নতুন করে রাজনৈতিক সমীকরণ উসকে দিল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

এখন দেখার, দল কাকে কোথায় প্রার্থী করে এবং এই আবেদন ঘিরে বিজেপির অন্দরে কী সমীকরণ তৈরি হয়।

আরও খবর

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.