সিঙ্গুরে জমি বিতর্ক ফের চর্চার কেন্দ্রে। টাটা মোটরসের ন্যানো কারখানার পর এ বার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র জনসভাকে ঘিরে জমি দিতে অনিচ্ছুক স্থানীয় কৃষকদের একাংশ। আগামী রবিবার, ১৮ জানুয়ারি হুগলির সিঙ্গুরে ‘টাটার মাঠে’ প্রধানমন্ত্রীর সভা হওয়ার কথা। কিন্তু সিংহের ভেড়ি ও গোপালনগর মৌজার কিছু জমির মালিক অভিযোগ তুলেছেন, তাঁদের কোনও মৌখিক বা লিখিত সম্মতি ছাড়াই সভার জন্য জমি ব্যবহার করা হচ্ছে।
এই মর্মে সংশ্লিষ্ট কৃষকেরা সিঙ্গুরের বিডিও-র কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। অভিযোগপত্রে জমির দাগ, খতিয়ান-সহ পূর্ণ বিবরণ দিয়ে বলা হয়েছে, জমির মালিক হিসেবে অনুমতি না নিয়েই তাঁদের জমি সভার কাজে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তাঁরা ‘তীব্র আপত্তি’ জানিয়ে প্রশাসনের কাছে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের দাবি তুলেছেন।
ঘটনা নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন সিঙ্গুরের বিধায়ক ও রাজ্যের কৃষি বিপণনমন্ত্রী বেচারাম মান্না। তাঁর বক্তব্য, “প্রধানমন্ত্রীর সভার ক্ষেত্রেও জমির মালিকদের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু এখানে সেই নিয়ম মানা হয়নি।” যদিও পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির তরফে সভার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় অভিযোগ খারিজ করে বলেন, “এটি সরকারি অনুষ্ঠান। সমস্ত অনুমতি জেলা প্রশাসন দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে নিম্নস্তরের রাজনীতি করা হচ্ছে।”
প্রসঙ্গত, ১৭ জানুয়ারি মালদহ ও ১৮ জানুয়ারি সিঙ্গুরে পর পর দু’দিন জনসভা করবেন প্রধানমন্ত্রী। সিঙ্গুরের ‘টাটার মাঠ’ সেই জমি, যেখানে এক সময় ন্যানো প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ হয়েছিল জমি। ২০০৮ সালে জমি রক্ষা আন্দোলনের আবহে টাটা গোষ্ঠী প্রকল্প সরিয়ে নেয় গুজরাতের সানন্দে। সাড়ে ১৭ বছর পর সেই সিঙ্গুর, সেই মাঠে ফের ফিরছেন মোদী—এ বার দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে। তবে সেই প্রত্যাবর্তন জমি বিতর্কের ছায়ায় ঢাকা পড়ছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।