প্রথম পাতা খবর বাবা-মার সঙ্গে ১৫ বছরের কম বয়সের ব্যবধান! নথির অসঙ্গতিতে কমিশনের নোটিস অমর্ত্য সেনকে

বাবা-মার সঙ্গে ১৫ বছরের কম বয়সের ব্যবধান! নথির অসঙ্গতিতে কমিশনের নোটিস অমর্ত্য সেনকে

24 views
A+A-
Reset

বাংলায় এসআইআর (Special Intensive Revision) শুনানি পর্ব চলাকালীন এবার নোটিস পৌঁছল নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ও ভারতরত্ন অমর্ত্য সেন-এর কাছে। এনুমারেশন ফর্মে তথ্যে অসঙ্গতির অভিযোগে শান্তিনিকেতনের প্রতীচী বাড়িতে হাজির হয়ে নোটিস দেন নির্বাচন কমিশনের তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। এই ঘটনা ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।

কমিশনের নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে, অমর্ত্য সেনের সঙ্গে তাঁর পিতা বা মাতার বয়সের পার্থক্য ১৫ বছরের কম দেখানো হয়েছে, যা ‘সাধারণভাবে প্রত্যাশিত’ নয়। এই তথ্যগত ত্রুটির কারণেই নোটিস পাঠানো হয়েছে বলে কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে। তবে একই সঙ্গে স্পষ্ট করা হয়েছে, অমর্ত্য সেনকে কোনও শুনানিকেন্দ্রে হাজিরা দিতে হবে না। প্রয়োজনীয় নথি জমা দিলেই সংশোধনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

বর্তমানে অমর্ত্য সেন বিদেশে, আমেরিকার বোস্টন শহরে রয়েছেন। ভারতের নাগরিক হিসেবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই তিনি এনুমারেশন ফর্ম জমা দিয়েছেন। তা সত্ত্বেও নোটিস পাঠানোয় প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনিক তৎপরতা ও যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, সংশ্লিষ্ট নথি হিসেবে আধার কার্ড, ভোটার কার্ড ও পাসপোর্টের জেরক্স কপি জমা দিতে হবে। এই সংশোধনের শেষ তারিখ ১৬ জানুয়ারি।

নোটিস হাতে পাওয়ার পরেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অমর্ত্য সেনের ভাই শান্তভানু সেন। তাঁর অভিযোগ, “কাগজপত্র মিলছে না বলে নোটিস দেওয়া হয়েছে। এটা স্পষ্টতই হয়রানি। সকলেই জানেন উনি কে, তার পরেও নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।”
প্রতীচী বাড়ির দায়িত্বে থাকা গীতিকণ্ঠ মজুমদার জানান, “অমর্ত্য সেনের সব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আমাদের কাছে রয়েছে। আমরা নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করব। কোনও সমস্যা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, এমন একজন মানুষকে বারবার এ ভাবে অসম্মানিত হতে হচ্ছে।”

এদিকে কমিশন সূত্রের দাবি, এটি একটি সামান্য কারিগরি ত্রুটি মাত্র। সঠিক নথি জমা পড়লেই বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়ে যাবে। তবে এই ঘটনা সামনে আসার পর এসআইআর শুনানি পর্ব ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশিষ্ট নাগরিকদের নাম যুক্ত হওয়ায় কমিশনের যাচাই প্রক্রিয়া ও নোটিস জারি করার পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।

এই প্রসঙ্গেই পরে বীরভূমের রামপুরহাটে জনসভা থেকে সরব হন তৃণমূল সাংসদ ও সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের জন্য নোবেল পুরস্কার এনে দেওয়া ব্যক্তিত্বকেও হেনস্তা করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিকে নোটিস পাঠানোর ঘটনা পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের দিকেই ইঙ্গিত করছে।

আরও খবর

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.