দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাটে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) শুনানিকে ঘিরে সোমবার উত্তেজনা ছড়াল। অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক এস মুরগান শুনানিকেন্দ্র পরিদর্শনে গেলে একাংশ গ্রামবাসী তাঁর গাড়ি আটকে বিক্ষোভ দেখান। গ্রামবাসীদের দাবি, শুনানির নামে অকারণে হয়রানি করা হচ্ছে, মানুষকে বিনা কারণে ডেকে পাঠানো হচ্ছে, নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও ফাঁক খোঁজা হচ্ছে। অভিযোগ উঠে যে, বিক্ষোভের সময় মুরগানের গাড়িতে চড়-থাপ্পর মারা হয়, গাড়ির দরজার লক ভেঙে দেওয়া হয়। বিক্ষোভের জেরে পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খায় পুলিশ। শেষ পর্যন্ত পুলিশ এসে গাড়িটি বিক্ষোভকারীদের ঘেরাও থেকে উদ্ধার করে বিশেষ পর্যবেক্ষককে নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে যায়।
এর মধ্যেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে হুগলির একাধিক শুনানিকেন্দ্র। চুঁচুড়ার বিধায়ক অসিত মজুমদার এবং ধনেখালির বিধায়ক অসীমা পাত্র শুনানি কেন্দ্রে গিয়ে প্রক্রিয়া থামিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। তাঁদের দাবি, বিএলএ বা রাজনৈতিক দলের বুথ স্তরের এজেন্টদের শুনানিকক্ষে প্রবেশাধিকার দিতে হবে, নইলে শুনানি চলবে না। তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্য, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ অনুযায়ী বিএলএ-দের উপস্থিতি নিশ্চিত করা জরুরি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ভার্চুয়াল বৈঠকে এই নির্দেশ দেওয়ার পরই হুগলির বিভিন্ন জেলায় তৃণমূল বিধায়কদের সক্রিয়তা বাড়ে। চুঁচুড়ায় প্রায় দু’ঘণ্টা শুনানি বন্ধ থাকে, শেষ পর্যন্ত অসিত মজুমদার ‘মানবিক কারণে’ অবস্থান প্রত্যাহার করেন, তবে অসন্তোষ রয়ে যায়।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন হুগলির ঘটনায় স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—কোনও রাজনৈতিক দলের এজেন্টকে শুনানিকক্ষে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনকে কড়া সতর্কতা পাঠানো হয়। কমিশন জানিয়েছে, শুনানিকক্ষে অনধিকার প্রবেশ ঘটলে দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং তৃণমূলের চাপে কোনও অবস্থাতেই শুনানি বন্ধ রাখা যাবে না। কমিশনের অবস্থান পরিষ্কার—নিয়ম ভেঙে নয়, প্রক্রিয়া অনুযায়ীই শুনানি হবে।
এদিকে শুনানি কেন্দ্রে হাজির বহু মানুষ ক্ষোভ উগরে দেন। প্রবীণ, অসুস্থ ও মহিলা ভোটাররা অভিযোগ করেন, বিনা প্রয়োজনে নোটিশ পাঠানো হচ্ছে, উপস্থিত থেকেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। বহু ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নথি দেওয়া হলেও প্রশ্ন তোলা হচ্ছে বলে দাবি তাদের। বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীদের বক্তব্য, এই পদ্ধতি নির্বাচন প্রক্রিয়াকে সহায়ক না হয়ে সাধারণ মানুষের মানসিক চাপ বাড়াচ্ছে।
সব মিলিয়ে এসআইআর শুনানির প্রথম দিনেই দক্ষিণবঙ্গজুড়ে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। একদিকে বিশেষ পর্যবেক্ষকের উপর হামলার অভিযোগ, অন্যদিকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে শুনানি বন্ধ—রাজনৈতিক চাপ, প্রশাসনিক কড়াকড়ি এবং গ্রামবাসীদের ক্ষোভে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। আগামী দিনে এই প্রক্রিয়া কীভাবে স্বাভাবিক হবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।