বাংলায় চলা এসআইআর (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়া নিয়ে ফের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কমিশনের কাজকে ‘ভুলভাল’ আখ্যা দিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপির আইটি সেলকে দিয়ে নির্বাচন কমিশনের অ্যাপ তৈরি করানো হয়েছে। বিষয়টিকে তিনি সম্পূর্ণ ‘অবৈধ, অসাংবিধানিক ও অগণতান্ত্রিক’ বলেও মন্তব্য করেন।
সোমবার বহু প্রতীক্ষিত গঙ্গাসাগর সেতুর উদ্বোধনে গঙ্গাসাগরে গিয়ে প্রশাসনিক মঞ্চ থেকেই এসআইআর ইস্যুতে মানুষের হয়রানির কথা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, প্রবল ঠান্ডার মধ্যেও শুনানির নামে প্রবীণ মানুষ ও অন্তঃসত্ত্বাদের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। নাম বাদ দেওয়ার ঘটনা নিয়েও তিনি নির্বাচন কমিশনের কড়া সমালোচনা করেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “হিয়ারিংয়ের নামে মানুষের হেনস্তা করা হচ্ছে। ৫৪ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের অধিকার ছিল ৭ নম্বর ও ৮ নম্বর ফর্ম ফিলআপ করার।” তাঁর আরও অভিযোগ, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে নির্বিচারে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। এমনকি “হোয়াটসঅ্যাপে নির্বাচন কমিশন চলছে” বলেও কটাক্ষ করেন তিনি। এই ইস্যুতে প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, দরকার হলে নিজে সওয়ালেও অংশ নেবেন।
মঙ্গলবার গঙ্গাসাগর থেকে কলকাতায় ফেরার পথে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েও এসআইআর নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “ভুলভাল করছে কমিশন। জীবিতদের মৃত দেখাচ্ছে। বয়োজ্যেষ্ঠদের নাকে নল পরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।” বিজেপির আইটি সেলকে দিয়ে অ্যাপ তৈরি করার অভিযোগ পুনরায় তুলে ধরে তিনি বলেন, “এই অ্যাপ অবৈধ, অসাংবিধানিক ও অগণতান্ত্রিক। এভাবে চলতে পারে না।”
অন্যদিকে গঙ্গাসাগর মেলার প্রস্তুতি নিয়েও এদিন গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, মেলার জন্য পর্যাপ্ত বেড, হাসপাতাল, চিকিৎসক ও অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত বাস পরিষেবার কথাও জানান তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “একটি সিঙ্গেল টিকিটেই মেলার বাসে যাতায়াত করা যাবে।”
এসআইআর ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রীর এই ধারাবাহিক আক্রমণের জেরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক তীব্র হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল এই মন্তব্য।