শীতের শুরু মানেই পর্যটনের মরশুম। সেই সময় রাজ্যের অন্যান্য পর্যটনকেন্দ্রগুলির মতোই সুন্দরবনেও হাজার হাজার পর্যটকের ভিড় জমে। কিন্তু সেই আবহে বড় সিদ্ধান্ত নিল সুন্দরবন টাইগার রিজ়ার্ভ কর্তৃপক্ষ। আগামী ১১ ও ১২ ডিসেম্বর সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে সুন্দরবনের পর্যটন কার্যক্রম।
টাইগার রিজ়ার্ভের প্রকাশিত নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, ওই দুই দিন বাঘশুমারির প্রথম পর্যায়ের কাজ চলবে। তাই কোনও বোট বা লঞ্চ পর্যটকদের নিয়ে জঙ্গলে প্রবেশ করতে পারবে না।
সুন্দরবনের ডেপুটি ফিল্ড ডিরেক্টর জোন্স জাস্টিনস জানিয়েছেন, “সুষ্ঠুভাবে বাঘ গণনা করার জন্যই বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বনকর্মীদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে। যাতে সঠিকভাবে বাঘের পরিসংখ্যান নির্ধারণ করা যায়। আশা করা হচ্ছে, এবারে বাঘের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে।”
টাইগার রিজ়ার্ভের এক আধিকারিকের কথায়, “বাঘশুমারির জন্য নিরিবিলি পরিবেশের প্রয়োজন। পর্যটকদের যাতায়াত ও শব্দদূষণ থাকলে কাজ বিঘ্নিত হতে পারে। তাই ওই দুই দিন সুন্দরবনে পর্যটন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে।”
এই দুই দিন অনলাইন বুকিংও বন্ধ থাকবে। ফলে কোনও পর্যটক ওই সময় সুন্দরবনের কোনও পর্যটনকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না।
এ বছর বাঘগণনার জন্য সুন্দরবনের বিভিন্ন অরণ্যাঞ্চলে মোট ১৪৮৪টি ট্র্যাপ ক্যামেরা বসানো হবে। প্রায় ৪১০০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে এই ক্যামেরাগুলির মাধ্যমে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের গতিবিধি নজরবন্দি করা হবে।
শুধু বাঘের উপস্থিতিই নয়, এবার নজর রাখা হবে তাদের খাদ্য শৃঙ্খল সম্পর্কেও। বনকর্মীরা পর্যবেক্ষণ করবেন হরিণ, বন্য শুকর এবং অন্যান্য প্রাণীর সংখ্যা ও অবস্থান। এর মাধ্যমে বাঘের খাদ্য জোগান কতটা সুষ্ঠু রয়েছে, তা বিশ্লেষণ করা হবে।
এই বারের বাঘশুমারিতে প্রথমবারের মতো একটি বিশেষ অ্যাপ ব্যবহার করা হবে, যার মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের কাজ আরও নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে বন দফতর সূত্রে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়ে সুন্দরবনে বাঘগণনার কাজ হয়। ট্র্যাপ ক্যামেরা ও পায়ের ছাপের ভিত্তিতে তৈরি এই পরিসংখ্যানই ভবিষ্যৎ সংরক্ষণ পরিকল্পনার ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
পরিবেশপ্রেমী ও বনকর্মীদের মতে, এই শুমারির ফলাফল শুধু সুন্দরবনের বাঘের সংখ্যা নয়, গোটা ইকোসিস্টেমের স্থিতি বোঝার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।