প্রথম পাতা খবর টেলিমেডিসিনে নজির পশ্চিমবঙ্গ! ‘স্বাস্থ্য ইঙ্গিত’ প্রকল্পে শীর্ষে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ

টেলিমেডিসিনে নজির পশ্চিমবঙ্গ! ‘স্বাস্থ্য ইঙ্গিত’ প্রকল্পে শীর্ষে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ

53 views
A+A-
Reset

বাংলার স্বাস্থ্য পরিষেবায় নতুন মাইলফলক স্থাপন করছে ‘স্বাস্থ্য ইঙ্গিত’ প্রকল্প। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে চালু হওয়া এই প্রকল্পের ফলে টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে রাজ্যের প্রত্যন্ত গ্রামেও পৌঁছে যাচ্ছে চিকিৎসা। নবেম্বরে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, এখনও পর্যন্ত প্রায় ৭ কোটি মানুষ এই পরিষেবার সুবিধা পেয়েছেন।

শুক্রবার স্বাস্থ্য ভবনের রিভিউ বৈঠকে স্পষ্ট হয়েছে এই প্রকল্পের কার্যকারিতা। টেলিমেডিসিন পরিষেবায় প্রথম স্থানে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ, দ্বিতীয় স্থানে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ, এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছে পূর্ব মেদিনীপুরের তাম্রলিপ্ত মেডিক্যাল কলেজ

রাজ্যে এখন ১০ হাজারেরও বেশি ‘সুস্বাস্থ্য কেন্দ্র’ চালু রয়েছে, যেখানে আশাকর্মীরা প্রত্যন্ত অঞ্চলের রোগীদের নিয়ে আসেন ও সেখান থেকেই সরকারি মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসকদের সঙ্গে ফোনে পরামর্শ করানো যায়। রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. করবী বড়াল বলেন, “টেলিমেডিসিনে রাজ্যে দ্বিতীয় হওয়া আমাদের গর্বের বিষয়। এই স্বীকৃতি অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেও উৎসাহ দেবে।”

বৈঠকে হাজির ছিলেন প্রতিটি মেডিক্যাল কলেজের সুপার ও অধ্যক্ষ ছাড়াও স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম এবং স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিকর্তা ইন্দ্রজিৎ সাহা। আলোচনা হয় টেলিমেডিসিন ছাড়াও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং পরিষেবার ঘাটতি দূরীকরণে।

ই-প্রেসক্রিপশন বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ

স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকরা জানান, বেশিরভাগ সরকারি হাসপাতালে ই-প্রেসক্রিপশন চালু হলেও তা আরও সংগঠিত করতে হবে। প্রেসক্রিপশন ডিজিটাল হলে রোগীর মোবাইল বা হাসপাতালের ডাটাবেসে নথি থেকে যাবে, ফলে হারানোর ভয় নেই এবং চিকিৎসকের হাতের লেখা বুঝতে না পারার সমস্যাও দূর হবে।

PPP মডেলে স্বাস্থ্য পরিষেবার সম্প্রসারণ

রাজ্যের একাধিক হাসপাতালে সিটি স্ক্যান, ডায়ালিসিস, এমআরআই-সহ গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা পিপিপি মডেলে চলছে। এই পরিষেবাগুলিতে নামমাত্র খরচে টেস্টের সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে। গ্রামাঞ্চলের মানুষকে আরও সচেতন করার উপর জোর দেওয়া হয় বৈঠকে।

মেডিক্যাল কলেজে বাড়ছে আসন

স্বাস্থ্যভবন সূত্রে খবর, যেসব মেডিক্যাল কলেজে আসন ২০০-র কম, সেগুলিতে গড়পড়তা ৫০টি করে আসন বাড়ানো হবে। বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজে ১৫০ থেকে আসন বেড়ে হবে ২০০। আসন বাড়বে পুরুলিয়া, রামপুরহাট, কোচবিহার ও জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজেও।

স্বাস্থ্য দপ্তরের দাবি, স্বাস্থ্য ইঙ্গিত প্রকল্প ও ডিজিটাল হেলথ সাপোর্ট মডেলের মাধ্যমে আগামী দিনে আরও দ্রুত ও আধুনিক পরিষেবা নিশ্চিত করাই লক্ষ্য।

আরও খবর

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.