বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-র উত্থান ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, নির্বাচনী ইস্তেহারে ঘোষিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রকল্পই ছিল দলের মাস্টারস্ট্রোক। অনেকের মতে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর জনপ্রিয় ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের ধাঁচে এই প্রতিশ্রুতি ভোটে প্রভাব ফেলেছে।
১৭ বছর পর সরাসরি ভোটের ময়দানে নেমে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশবাসীর ভাগ্য বদলের অঙ্গীকার করেছিলেন। ইস্তেহারে জানানো হয়, ক্ষমতায় এলে প্রান্তিক ও দরিদ্র পরিবারের মহিলাদের নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ইস্যু করা হবে। সেই কার্ডের ভিত্তিতে পরিবারপিছু নগদ আড়াই হাজার টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য দেওয়া হবে। সময়ের সঙ্গে এই আর্থিক সহায়তা বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছিল। লক্ষ্য, নারীদের অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করা।
ইস্তেহারে মিড-ডে মিল ও আয়ুষ্মান ভারত ধাঁচে স্বাস্থ্য প্রকল্প চালুর আশ্বাসও ছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলিই সাধারণ ভোটারদের আস্থা জোগাতে সাহায্য করেছে।
শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, ২৯৯ আসনের নির্বাচনে ২০০-র বেশি আসনে এগিয়ে বিএনপি। ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬—দুটি আসনেই জয়ী হয়েছেন তারেক রহমান। প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে জামায়াত, ঢাকায় তাদের ফলও উল্লেখযোগ্য।
নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট হতেই জল্পনা শুরু হয়েছে—বাংলাদেশে কি সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প-নির্ভর রাজনীতির নতুন অধ্যায় শুরু হল?