বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন তারেক রহমান। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভের মাধ্যমে ২০ বছর পর আবারও সরকার গঠন করল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সরকারে ছিল দলটি। দীর্ঘ দুই দশক পর ফের ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন ঘটল তাদের।
৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভা
নতুন মন্ত্রিসভায় মোট ৫০ জন সদস্য রয়েছেন। এর মধ্যে ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী, ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী এবং তিনজন টেকনোক্র্যাট। এবারের মন্ত্রিসভায় নতুন মুখের সংখ্যাই বেশি।
পূর্ণমন্ত্রীদের মধ্যে ২৫ জনের মধ্যে ১৭ জনই প্রথমবার দায়িত্ব পেলেন। প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে ২৪ জনই নতুন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও এই প্রথম মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ নিলেন।
প্রথমবার মন্ত্রী
প্রথমবার মন্ত্রী হয়েছেন তারেক রহমান ছাড়াও এ জেড এম জাহিদ হোসেন, খলিলুর রহমান (টেকনোক্র্যাট), আব্দুল আওয়াল মিন্টু, মিজানুর রহমান মিনু, খন্দকার আব্দুল মোকতাদির, আরিফুল হক চৌধুরী, জহির উদ্দিন স্বপন, মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ (টেকনোক্র্যাট), আফরোজা খানম রিতা, শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, মো. আসাদুজ্জামান, জাকারিয়া তাহের সুমন, দীপেন দেওয়ান, ফকির মাহবুব আনাম স্বপন, সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল ও শেখ রবিউল আলম।
প্রথমবার প্রতিমন্ত্রী
প্রথমবার প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, মো. শরিফুল আলম, শামা ওবায়েদ ইসলাম, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কায়সার কামাল, ফরহাদ হোসেন আজাদ, আমিনুল হক (টেকনোক্র্যাট), মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, হাবিবুর রশীদ, মো. রাজিব আহসান, মো. আব্দুল বারী, মীর শাহে আলাম, জোনায়েদ সাকি, ইশরাক হোসেন, ফারজানা শারমিন, শেখ ফরিদুল ইসলাম, নুরুল হক, ইয়াসের খান চৌধুরী, ইকবাল হোসেইন, এম এ মুহিত, আহমেদ সোহেল মঞ্জুর, ববি হাজ্জাজ ও আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম।
রাজধানীতে উৎসবের আবহ
জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা জড়ো হন। মানিক মিয়া এভিনিউজুড়ে স্লোগান, সমাবেশ ও উদ্যাপনের আবহ দেখা যায়।
শপথ অনুষ্ঠান দেখার জন্য বড় ডিজিটাল ডিসপ্লে ও সাউন্ড বক্সের ব্যবস্থা করা হয়। অন্য প্রান্তে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য মঞ্চও সাজানো হয়।
দীর্ঘ দুই দশক পর ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তনের এই মুহূর্তে বিএনপির সামনে এখন প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ ও জনআকাঙ্ক্ষা পূরণের বড় দায়িত্ব।