আগামী বছরে রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। আর তার আগেই প্রচার ও সংগঠন চাঙ্গা করতে উদ্যোগী হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে জানুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত টানা কর্মসূচিতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত সফর করবেন। দলীয় সূত্রে খবর, কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক নাম শনিবার সাংবাদিক বৈঠকের মাধ্যমে ঘোষণা করা হতে পারে। যদিও এখনও কোনও নাম প্রকাশ্যে আসেনি, তবে মূল লক্ষ্য—‘উন্নয়নের বার্তা’ ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিভিন্ন এলাকায় ‘সেবাশ্রয়’ শিবির ও জনসভা মিলিয়ে একাধিক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
সূচি অনুযায়ী সম্ভাব্য অনুষ্ঠানগুলি—
- ২৯ ডিসেম্বর – বিষ্ণুপুর (দ. ২৪ পরগনা): সেবাশ্রয়
- ৫ জানুয়ারি – সাতগাছিয়া: সেবাশ্রয় শিবির
- ২ জানুয়ারি – বারুইপুরে সভা
- ৪ জানুয়ারি – বীরভূমে সভা
- ৭ জানুয়ারি – ইটাহার
- ৮ জানুয়ারি – মালদহ
- ১৩ জানুয়ারি – কোচবিহার
- ১৫ জানুয়ারি – কাঁথি
জানা গিয়েছে, এই সব সভায় উপস্থিত থেকে দলের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশ, ভোট কৌশল, এবং প্রচারের মূল ইস্যু স্পষ্ট করবেন অভিষেক। তৃণমূলের তরফে মনে করা হচ্ছে, এসআইআর-পরবর্তী পরিস্থিতিতে আগামী ভোট আরও কড়া লড়াই হতে পারে। ফলে গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে মোকাবিলায় ‘উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা ও বঞ্চনার প্রতিবাদ’—এই তিন ইস্যুকেই সামনে রেখে জনসংযোগে জোর দিতে চাইছে দল।
২০২১ সালে বিজেপির প্রচারের মোকাবিলায় ভোটযুদ্ধে লড়াইয়ের মেজাজ দেখিয়েছিল তৃণমূল। ২০২৪-এ কেন্দ্রীয় বঞ্চনার ইস্যু সামনে এনে চাপ বাড়িয়েছিল তারা। এবার ’২৬-এর ভোটের আগে উন্নয়নের খতিয়ানকে হাতিয়ার করে মাঠে নামছে ঘাসফুল শিবির। এই প্রেক্ষিতেই শুক্রবার ও রবিবার দলীয় নেতৃত্ব ও বিএলএ-২ প্রতিনিধিদের সঙ্গে ভারচুয়াল বৈঠক করবেন অভিষেক। সেখানেই পরিষ্কার হতে পারে প্রচারের মূল বার্তা।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সফর ও সভাগুলি আগামী নির্বাচনী লড়াইয়ের দিক নির্দেশক হয়ে দাঁড়াতে পারে। এখন নজর—অভিষেক ঠিক কী ঘোষণা করেন এবং তৃণমূল কীভাবে আগামী ভোটের রূপরেখা আঁকে।