দিল্লির নির্বাচন সদনে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের বৈঠক ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল জাতীয় রাজনীতি। বৈঠককে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের পাল্টা অভিযোগে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের সদস্য তথা সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন অভিযোগ করেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার তাঁদের ‘গেট লস্ট’ বলে বৈঠক থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন। তাঁর দাবি, বৈঠকে কোনও আলোচনা হয়নি এবং তাঁদের বক্তব্য রাখার সুযোগও দেওয়া হয়নি।
বুধবার সকাল ১০টা নাগাদ চার সদস্যের তৃণমূল প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনের সদর দফতরে পৌঁছয়। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে আসে। বাইরে বেরিয়ে ডেরেক বলেন, “আমরা ছ’টি বিষয় তুলে ধরতে চেয়েছিলাম, কিন্তু কথা শুরু হওয়ার আগেই আমাদের থামিয়ে দেওয়া হয়।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঠানো একাধিক চিঠিরও কোনও জবাব দেয়নি কমিশন। এমনকি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে কড়া ভাষায় আক্রমণও করেন তিনি।
তৃণমূলের প্রতিনিধি দলে ডেরেক ছাড়াও ছিলেন সাংসদ মেনকা গোস্বামী, সাগরিকা ঘোষ এবং প্রাক্তন সাংসদ সকেত গোখলে। তাঁরা কমিশনের কাছে একটি স্মারকলিপিও জমা দেন।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের তরফে সরাসরি ‘গেট লস্ট’ মন্তব্য নিয়ে কিছু না বলা হলেও পাল্টা দাবি করা হয়েছে, বৈঠকের সময় তৃণমূল প্রতিনিধিরা উত্তেজিত আচরণ করেন। কমিশন সূত্রে খবর, ডেরেককে সংযত থাকতে বলা হয় এবং বৈঠকের শিষ্টাচার বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, তারা সব রাজনৈতিক দলকেই অবাধ, শান্তিপূর্ণ এবং ভয়মুক্ত নির্বাচন নিশ্চিত করার বার্তা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও তৃণমূল ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে বৈঠক ঘিরে উত্তেজনা দেখা গিয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করতে গিয়ে মাঝপথেই বেরিয়ে আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একই ধরনের অভিযোগ তুলেছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। বুধবারের এই ঘটনাকে ঘিরে আবারও স্পষ্ট হল, ভোটের আগে তৃণমূল ও নির্বাচন কমিশনের সম্পর্কের টানাপোড়েন তুঙ্গে।