বাংলায় ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে এ বার সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হল তৃণমূল কংগ্রেস। মঙ্গলবার শীর্ষ আদালতে মামলা দায়ের করেছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ Derek O’Brien। তাঁর আবেদনে মূলত দু’টি দাবি তুলে ধরা হয়েছে—এসআইআরের সময়সীমা বাড়ানো এবং এই প্রক্রিয়ায় জাতীয় নির্বাচন কমিশনের একাধিক পদ্ধতিগত ত্রুটির বিচারবিভাগীয় পর্যালোচনা।
ডেরেকের অভিযোগ, বাংলায় চলা এসআইআর প্রক্রিয়ায় নিয়ম মেনে কাজ হয়নি। আদালতে জানানো হয়েছে, নির্বাচন কমিশন একাধিক ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত বিধি ও নির্দেশিকা লঙ্ঘন করেছে, যার ফলে লক্ষ লক্ষ ভোটারের মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মামলায় দাবি করা হয়েছে, এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে পর্যাপ্ত সময় ও স্বচ্ছ শুনানির সুযোগ দেওয়া হয়নি।
তৃণমূলের মামলায় বিশেষ ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে তথাকথিত ‘হোয়াটসঅ্যাপ কমিশন’ প্রসঙ্গ। অভিযোগ, বুথ লেভেল অফিসার ও অন্যান্য আধিকারিকদের কাছে হোয়াটসঅ্যাপের মতো অনানুষ্ঠানিক মাধ্যম ব্যবহার করে নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। এর ফলে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নষ্ট হয়েছে এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো সংবেদনশীল প্রক্রিয়া প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
শীর্ষ আদালতে আরও দাবি করা হয়েছে, প্রায় ৫৮ লক্ষ ভোটারকে কোনও রকম শুনানি ছাড়াই খসড়া তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। যদিও নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, মৃত, স্থানান্তরিত ও ভুয়ো ভোটার চিহ্নিত করার পর এই সংখ্যক নাম বাদ পড়েছে, তবে তৃণমূলের অভিযোগ—এই তালিকাতেই রয়েছে গুরুতর অসঙ্গতি। এর আগেই দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক Abhishek Banerjee জনসভায় কমিশনের খাতায় ‘মৃত’ হিসেবে চিহ্নিত কয়েক জন ভোটারকে হাজির করে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন।
ডেরেকের দায়ের করা মামলায় আরও উল্লেখ রয়েছে, অতিরিক্ত সিইও-র জারি করা এক স্মারকলিপিতে স্বীকার করা হয়েছে যে, ২০০২ সালের ভোটার তালিকার পিডিএফ নথি সিএসভি ফরম্যাটে রূপান্তরের সময় ডেটা ম্যাপিংয়ে ব্যাপক ও পদ্ধতিগত ত্রুটি হয়েছে। অভিযোগ, এই ডিজিটাইজেশন প্রক্রিয়া বুথ স্তরের যাচাইকরণ বা মাঠপর্যায়ের আধিকারিকদের তত্ত্বাবধান ছাড়াই সম্পন্ন করা হয়েছিল।
সূত্রের খবর, মঙ্গলবার এই মামলার মাধ্যমে Supreme Court of India–এর প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে যে বিতর্ক ক্রমশ তীব্র হচ্ছে, তা এ বার দেশের শীর্ষ আদালতের বিচারাধীন হতে চলেছে।