অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে গিয়ে চরম বিশৃঙ্খলার ছবি সামনে এল নির্বাচন কমিশনের অন্দরে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের প্রায় ২২ দিন পর প্রথম অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করতে গিয়ে কার্যত হিমশিম খেতে হল কমিশনকে। একাধিক প্রশ্নের মুখে পড়ে অবশেষে সোমবার মধ্যরাতে প্রকাশিত হয় তালিকা, তবে তাতেও কাটেনি ধোঁয়াশা।
কমিশনের তরফে এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট করে জানানো হয়নি, মোট কতজনের নাম তালিকায় যুক্ত হয়েছে বা কতজনের নাম বাদ পড়েছে। ফলে ভোটারদের মধ্যে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ। বুথভিত্তিক তালিকা ডাউনলোড করে নিজের নাম যাচাই করার কথা বলা হলেও, প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে সব বুথের তালিকা পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠছে।
এদিকে অভিযোগ, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরকে না জানিয়েই জাতীয় নির্বাচন কমিশন এই তালিকা প্রকাশ করেছে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সিইও দপ্তরের একাধিক আধিকারিক। তালিকা প্রকাশের আগের মুহূর্ত পর্যন্ত রাজ্যের হাতে কোনও তথ্য ছিল না বলেও দাবি।
মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত প্রায় ২৯ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি হয়েছে। তবে এর মধ্যে অর্ধেকের কাছাকাছি ক্ষেত্রে ‘ই-সাইন’ না থাকায়, কতজনের নাম বাদ গিয়েছে তা নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
যদিও কমিশনের দাবি, মঙ্গলবার দুপুরের মধ্যেই পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে। পাশাপাশি জানানো হয়েছে, সন্ধ্যার মধ্যে সমস্ত জেলাশাসক, বিডিও ও এসডিও অফিসে তালিকা টাঙানো হবে এবং বুথ লেভেল অফিসারদের (বিএলও) কাছেও তালিকা পৌঁছে দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, যাঁদের নাম এই তালিকা থেকে বাদ পড়বে, তাঁরা ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে পারবেন। সেই উদ্দেশ্যে ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে মুখ্যসচিবকে চিঠি দিয়েছেন। পরবর্তী অতিরিক্ত ভোটার তালিকা আগামী শুক্রবার প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তবে প্রথম তালিকাতেই যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ ভোটার—সবার মধ্যেই বাড়ছে প্রশ্ন।