কলকাতা: অষ্টদশ বিধানসভার অধিবেশন শেষ হতেই রাজ্য রাজনীতিতে এখন দু’টি বড় নির্বাচনের দামামা। একদিকে আগামী এক মাসের মধ্যে বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার সম্ভাবনা, অন্যদিকে এপ্রিল মাসে পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজ্যসভার পাঁচটি আসনের মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে এই রাজ্যসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঘর গোছাতে শুরু করেছে শাসক ও বিরোধী— উভয় শিবিরই।
কাদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে?
আগামী এপ্রিল মাসে মেয়াদ ফুরোচ্ছে তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী, সাকেত গোখলে ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এছাড়া সিপিএমের আইনজীবী নেতা তথা কলকাতার প্রাক্তন মেয়র বিকাশ ভট্টাচার্যের সাংসদ পদের মেয়াদও এই এপ্রিলেই শেষ হচ্ছে। অন্যদিকে, মৌসম বেনজির নূর দলত্যাগ করায় একটি আসন আগে থেকেই শূন্য রয়েছে। এই পাঁচটি আসনেই এবার ভোট হবে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায়।
সংখ্যার অঙ্ক ও জয়ের সমীকরণ
বিধানসভার বর্তমান বিধায়ক সংখ্যার বিচারে চারটি আসনে তৃণমূল এবং একটি আসনে বিজেপির জয় কার্যত নিশ্চিত। নিয়ম অনুযায়ী, এক একজন প্রার্থীর জন্য ৫০ জন বিধায়কের সমর্থন প্রয়োজন। বর্তমান পরিস্থিতিতে তৃণমূলের হাতে ২০০-র বেশি এবং বিজেপির হাতে ৬৫ জন বিধায়ক থাকায় ভোটাভুটির কোনও সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। স্ক্রুটিনি পর্ব শেষ হলেই প্রার্থীদের হাতে বিজয় শংসাপত্র তুলে দেওয়া হতে পারে বলে মনে করছে বিধানসভা সচিবালয়ের একাংশ।
মনোনয়ন ও দলের নির্দেশ
রাজ্যসভার মনোনয়ন ত্রুটিমুক্ত রাখতে প্রতিটি দল এক একজন প্রার্থীর জন্য একাধিক সেট মনোনয়ন পেশ করার কৌশল নিয়েছে। পরিষদীয় দল সূত্রে খবর, তৃণমূলের ৪ প্রার্থীর জন্য ২০০-র বেশি বিধায়ককে প্রস্তাবক হিসেবে সই করতে তলব করা হতে পারে। বিজেপিও তাদের ৬৫ জন বিধায়ককে প্রস্তুত থাকতে বলেছে। বিধায়করা বর্তমানে জনসংযোগে ব্যস্ত থাকলেও, নির্দিষ্ট দিনে মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর করতে তাঁদের বিধানসভায় আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করলেই বিধানসভা কর্তৃপক্ষ প্রশাসনিক কাজ শুরু করে দেবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভা ভোটের আগে এই পাঁচ সাংসদ পদে নতুন বা পুরনো মুখ নিয়ে আসার মাধ্যমে দলগুলি নিজেদের রাজনৈতিক সমীকরণ আরও মজবুত করতে চাইছে।