রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে ‘যুবসাথী’ প্রকল্পে নাম নথিভুক্তির শিবির। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষিত এই আর্থিক সহায়তা প্রকল্প ঘিরে গ্রাম থেকে শহর— সর্বত্র যুব সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। শিবিরের প্রথম দিনেই প্রায় পাঁচ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।
তবে এই উৎসাহের আবহেই উঁকি দিচ্ছে নতুন আশঙ্কা— সাইবার প্রতারণা। বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনও সরকারি প্রকল্প নিয়ে মানুষের আগ্রহ বাড়লেই প্রতারকচক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। দ্রুত সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তারা সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলে।
কীভাবে হতে পারে প্রতারণা?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অচেনা নম্বর থেকে ফোন করে নিজেকে সরকারি কর্মী বা ব্লক অফিসের প্রতিনিধি বলে পরিচয় দিতে পারে প্রতারকরা। বলা হতে পারে— “আপনার আবেদন অনুমোদিত হয়েছে। টাকা ছাড়ার আগে ভেরিফিকেশন দরকার। মোবাইলে যে ওটিপি এসেছে, সেটি জানালেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে।”
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা, এমন প্রলোভনে পা দিলেই বিপদ। ওটিপি বা ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করা মানে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল ওয়ালেট কিংবা পরিচয় সংক্রান্ত তথ্যের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলা। মুহূর্তের মধ্যে অ্যাকাউন্ট ফাঁকা হয়ে যেতে পারে।
ভুয়ো লিংকের ফাঁদ
সাইবার বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন, এসএমএস বা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো লিংক পাঠিয়েও ফাঁদ পাততে পারে প্রতারকরা। “ফর্ম আপডেট করুন”, “টাকা পেতে লগ ইন করুন” বা “শেষ সুযোগ”—এমন বার্তা পেলে সরাসরি ক্লিক না করে আগে সরকারি ওয়েবসাইটে যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কোনও সরকারি প্রকল্পে ফোন করে ওটিপি চাওয়ার নিয়ম নেই বলেও স্পষ্ট জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। নথি যাচাইয়ের নির্দিষ্ট প্রশাসনিক পদ্ধতি রয়েছে।
প্রশাসনের সতর্কতা
উত্তর ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসনের এক কর্তা জানিয়েছেন, আগেও বিভিন্ন প্রকল্পের সময় ব্লক স্তরে সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের ক্ষেত্রেও সচেতনতা প্রচারের কথা ভাবা হচ্ছে।
উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের সভাধিপতি নারায়ণ গোস্বামী বলেন, “সরকারি পরিষেবা পাওয়ার জন্য শর্টকাটের প্রলোভনে পা দেওয়া চলবে না। জেলা স্তরে সচেতনতা প্রচারের পরিকল্পনা রয়েছে।”
উৎসাহ থাকুক, তবে সতর্ক থাকাই এখন প্রধান বার্তা— এমনটাই বলছেন প্রশাসন ও সাইবার বিশেষজ্ঞরা।