কলকাতা: তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষের উপর হামলার ঘটনায় পঞ্চাশ লক্ষ টাকার বিনিময়ে বিহারের এক কুখ্যাত গ্যাংকে সুপারি দিয়েছিল অভিযুক্ত গুলজার। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এমনটাই স্বীকার করেছে সে। তবে পুরো টাকার লেনদেন হয়নি বলেও দাবি করেছে গুলজার।
প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার সুশান্ত ঘোষকে তাঁর বাড়ির সামনে গুলি চালানোর চেষ্টা করে একদল দুষ্কৃতী। সেই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে অন্যতম গুলজার, যে এই হামলার মূলচক্রী বলে মনে করছে তদন্তকারীরা।
তদন্তে উঠে এসেছে, বিহারের পাপ্পু গ্যাংকে সুপারি দেওয়া হয়েছিল এই কাজের জন্য। গ্যাং-এর চারজন কলকাতায় আসে, যাদের মধ্যে একজন মাসখানেক আগে থেকেই শহরে ছিল। বাকিরা গত বৃহস্পতিবার আসে। চারজনের মধ্যে তিন জন ছিল পেশাদার শার্প শ্যুটার। তাদের মধ্যে এক জন, যুবরাজ কুমার, নতুন সদস্য। পুলিশ সন্দেহ করছে, এত অভিজ্ঞ শ্যুটার থাকা সত্ত্বেও কেন যুবরাজকে ব্যবহার করা হলো, তার পেছনে বিশেষ কোনো কারণ থাকতে পারে।
পুলিশের দাবি, জেরায় গুলজার সহযোগিতা করছে না। নিজের পরিচয় নিয়েও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছে সে। ফলে, এই ঘটনায় বিহার ছাড়াও অন্য কোনো রাজ্যের কারও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা জানতে তদন্তে অন্যান্য রাজ্যেও গিয়েছে কলকাতা পুলিশের একটি দল।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, গ্রেফতার হওয়া শ্যুটারদের বিরুদ্ধে বিহার ও অন্যান্য রাজ্যে ৩০টিরও বেশি মামলা রয়েছে। সেগুলোর মধ্যে খুন, ডাকাতি এবং অস্ত্র আইনের মামলাও অন্তর্ভুক্ত। এই গ্যাং-এর প্রধান পাপ্পু চৌধুরী নিজেই একাধিক রাজ্যে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকাভুক্ত অপরাধী।
এই পরিস্থিতিতে, গুলজার কী ভাবে এবং কখন এই গ্যাং-এর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল তা জানতে আরও গভীর তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।