প্রথম পাতা খবর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের জের, শুনানির সময়সীমা বাড়াতে পারে কমিশন

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের জের, শুনানির সময়সীমা বাড়াতে পারে কমিশন

103 views
A+A-
Reset

সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশের পর ভোটার তালিকা সংশোধনের শুনানির সময়সীমা বাড়াতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। কমিশন সূত্রে খবর, শীর্ষ আদালতের রায় মেনে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুনানির শেষ দিন পরিবর্তন করা হতে পারে। একইসঙ্গে ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের দিনক্ষণও পিছিয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা। বুধবারই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা জারি করতে পারে কমিশন।

সুপ্রিম কোর্টের ১০ দফা নির্দেশিকা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় (SIR) ‘তথ্যগত অসঙ্গতি’ বা লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি নিয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে মঙ্গলবার ১০ দফা নির্দেশিকা দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। সেখানে বলা হয়েছে:

১. তালিকা প্রকাশ: ‘তথ্যগত অসঙ্গতি’ রয়েছে এমন ভোটারদের তালিকা গ্রাম পঞ্চায়েত, ব্লক অফিস এবং শহরাঞ্চলে ওয়ার্ড অফিসে এমনভাবে টাঙাতে হবে যাতে সাধারণ মানুষ সহজেই তা দেখতে পান। ২. প্রতিনিধি বা বিএলএ: ভোটাররা নিজেরা না পারলে অনুমোদিত প্রতিনিধির মাধ্যমে নথি বা আপত্তি জমা দিতে পারবেন। বুথ লেভেল এজেন্ট (BLA)-রাও স্বাক্ষর বা আঙুলের ছাপযুক্ত অনুমতিপত্র দেখিয়ে এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন। তৃণমূল কংগ্রেস দীর্ঘ দিন ধরেই এই দাবি জানিয়ে আসছিল। ৩. অতিরিক্ত সময়: যেদিন ওই তালিকা প্রকাশ করা হবে, তারপর থেকে ভোটারদের হাতে অন্তত ১০ দিন সময় দিতে হবে নথি বা আপত্তি জমা দেওয়ার জন্য। ৪. নথি জমা: পঞ্চায়েত বা ব্লক অফিসে নথি জমা দেওয়া যাবে। সেখানে পর্যাপ্ত কর্মী নিয়োগ করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। ৫. বিকল্প নথি: শুনানির সময় বয়সের প্রমাণ হিসেবে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড জমা দেওয়া যাবে। এটি মাধ্যমিক পাশ সার্টিফিকেটের বিকল্প হিসেবে গণ্য হবে। ৬. আইনশৃঙ্খলা ও রসিদ: শুনানির সময় যাতে কোনও অশান্তি না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে ডিজি, এসপি এবং জেলাশাসকদের। এছাড়া, জমা দেওয়া নথির প্রমাণ হিসেবে রসিদ বা ফোটোকপিতে সিল দেওয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে।

রাজ্যের পরিস্থিতি কমিশন সূত্রে খবর, রাজ্যে প্রায় ১ কোটি ৪০ লক্ষ মানুষকে নথি যাচাইয়ের জন্য নোটিস পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১.৩৬ কোটি ভোটারই ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’র আওতায় পড়েছেন। অর্থাৎ তাঁদের তথ্যে কোনও না কোনও অসঙ্গতি রয়েছে।

এদিকে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের কপি হাতে আসার আগেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় তৎপরতা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার চুঁচুড়া-মগড়া বিডিও অফিসে বিএলএ-রা শুনানিতে অংশ নিতে চাইলে কমিশনের আধিকারিকরা তাতে আপত্তি করেননি।

আরও খবর

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.