প্রথম পাতা খবর আনন্দপুর মোমো কারখানায় অগ্নিকাণ্ড: মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮, নিখোঁজ অন্তত ১২

আনন্দপুর মোমো কারখানায় অগ্নিকাণ্ড: মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮, নিখোঁজ অন্তত ১২

33 views
A+A-
Reset

নিজস্ব প্রতিবেদন, আনন্দপুর: আনন্দপুরের নাজিরাবাদ রোডের মোমো তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮। তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অনেকে আটকে থাকায় এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে প্রশাসন। নিখোঁজদের সন্ধানে রাতভর কারখানার বাইরে ভিড় করে আছেন পরিজনরা।

পকেট ফায়ার ও উদ্ধারকাজ: সোমবারের ভয়াবহ আগুনের রেশ মঙ্গলবার সকালেও কাটেনি। দমকল কর্মীদের মতে, ধ্বংসস্তূপের ভেতরে এখনো কিছু পকেট ফায়ার বা ‘ধিকিধিকি’ আগুন জ্বলছে। কুলিং প্রসেস বা এলাকা ঠান্ডা করার কাজ চলছে। লোহার বিম ও কংক্রিটের কাঠামো ভেঙে পড়ায় পুরো এলাকাটি এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। কংক্রিট সরানোর কাজ শুরু হলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ স্পষ্ট হবে।

শনাক্তকরণে ডিএনএ টেস্ট: উদ্ধার হওয়া দেহগুলি আগুনে এতটাই ঝলসে গিয়েছে যে সাধারণ উপায়ে শনাক্ত করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পুলিশ ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পরিচয় নিশ্চিত করতে মৃতদের ডিএনএ পরীক্ষা করানো হবে। নিখোঁজের তালিকায় বর্তমানে ১২ জনের নাম থাকলেও সংখ্যাটি বাড়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত: রবিবার রাত দেড়টা নাগাদ যখন কারখানার ভেতরে কর্মীরা কাজ করছিলেন, তখনই আগুন লাগে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, কারখানার ভেতরে প্রায় ৩০ জন শ্রমিক ছিলেন। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে ১০ জন বেরিয়ে আসতে পারলেও বাকি ২০ জন ভেতরেই আটকে পড়েন। দমকলের ১৫টি ইঞ্জিন দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

প্রশাসনিক তৎপরতা: দুর্ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছান মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, সাংসদ সায়নী ঘোষ এবং বিধায়ক ফিরদৌসি বেগম। মন্ত্রী নিখোঁজ ও আহত শ্রমিকদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। এই কারখানায় উপযুক্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে ফরেনসিক তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও খবর

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.