সিঙ্গুর: অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। ফি বছর বর্ষায় ঘাটালবাসীর জলযন্ত্রণার দিন শেষ হতে চলেছে। বুধবার সিঙ্গুরের সরকারি সভা থেকে ভার্চুয়ালি বহুকাঙ্ক্ষিত ‘ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান’-এর শুভ উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রের আর্থিক সাহায্য ছাড়াই সম্পূর্ণ রাজ্য সরকারের ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই মেগা প্রকল্পের কাজ শুরু হলো। এই বিশেষ মুহূর্তে মুখ্যমন্ত্রীর পাশেই ছিলেন ঘাটালের তারকা সাংসদ দেব, যাঁর দীর্ঘ লড়াইয়ের ফসল এই মাস্টার প্ল্যান।
ঘাটালের ভূমিপুত্র দেব ছোটবেলা থেকেই বন্যার ভয়াবহতা দেখে বড় হয়েছেন। ২০১৪ সালে সাংসদ হওয়ার পর থেকেই সংসদের অন্দরে ও বাইরে এই প্রকল্প নিয়ে সরব হয়েছিলেন তিনি। এদিন উদ্বোধনের পর আবেগে আপ্লুত দেব বলেন, “ঘাটালের মানুষ ভেবেছিলেন এমন কেউ আসুক যিনি আমাদের দুঃখ বুঝবেন। আমি দিল্লিতে দরবার করেছি, বৈঠক করেছি, কিন্তু কেন্দ্র কথা রাখেনি। দিদি কথা দিয়েছিলেন তিনি করবেন, আজ তিনি কথা রাখলেন। এটা কোনো সাধারণ ব্যাপার নয়।”
শিল্যাবতী, কংসাবতী ও ঝুমি নদীর পলি এবং ব্রিটিশ আমলের ভঙ্গুর ‘জমিদারি বাঁধ’-এর কারণে প্রতি বছর প্লাবিত হতো ঘাটাল। কেন্দ্র সরকারের বঞ্চনার অভিযোগে এই প্রকল্প বছরের পর বছর ফাইলবন্দি হয়ে পড়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গত লোকসভা নির্বাচনের আগেই ঘোষণা করেছিলেন, কেন্দ্র টাকা না দিলে রাজ্যই এই কাজ করবে। সেই মতোই বাজেটে বরাদ্দ করে আজ প্রকল্পের সূচনা করলেন তিনি।
সাংসদ দেব আরও যোগ করেন, “এই ফাইলটি দশকের পর দশক প্রতিটি দপ্তরের টেবিলে পড়ে ছিল, কেউ কাজ করেনি। গত ১৫ বছর ধরে যে দল ও যে নেত্রী মানুষকে আগলে রেখেছেন, আজকের দিনটি তাঁর সাফল্যের গর্বের দিন।” মুখ্যমন্ত্রী ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে হাতজোড় করে কৃতজ্ঞতা জানান সাংসদ। এই প্রকল্পের ফলে ঘাটাল মহকুমার কয়েক লক্ষ মানুষ বন্যার অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।