ব্যারাকপুর: আনন্দপুরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড নিয়ে এবার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কাঠগড়ায় তুললেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শনিবার উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুরে বিজেপির কর্মী সম্মেলনে যোগ দিয়ে শাহ দাবি করেন, আনন্দপুরের ওই গুদামে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। একইসঙ্গে ওই মোমো সংস্থার মালিকের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর ‘ঘনিষ্ঠতা’র তত্ত্ব তুলে ধরে দুর্নীতির অভিযোগে সরব হন তিনি।
এদিন ভাষণ শুরু করেই আনন্দপুরের ঘটনায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান শাহ। তিনি স্পষ্ট বলেন, “এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং মমতা সরকারের দুর্নীতির ফল।” স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রশ্ন, “এই মোমো কারখানার মালিকের কাছে কার পয়সা খাটছে? কার সঙ্গে তিনি বিমানে বিদেশ সফরে গিয়েছিলেন? কেন এখনও পর্যন্ত মূল মালিককে গ্রেপ্তার করা হল না?” উল্লেখ্য, শুক্রবার থেকেই বিজেপি দাবি করছে যে, ওই সংস্থার অন্যতম কর্ণধার মুখ্যমন্ত্রীর স্পেন সফরের সঙ্গী ছিলেন। শাহ এদিন সেই অভিযোগেই কার্যত সিলমোহর দিলেন।
আনন্দপুরের গুদামটি জলাভূমিতে তৈরি এবং সেখানে পরিবেশ সংক্রান্ত কোনো ছাড়পত্র ছিল না বলেও অভিযোগ তোলেন শাহ। তিনি বলেন, “বাইরে থেকে দরজা বন্ধ থাকায় ভিতরে শ্রমিকরা চিৎকার করলেও বেরোতে পারেননি।” রাজ্য সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি জানান, আগামী এপ্রিলের পর রাজ্যে বিজেপি সরকার আসবে এবং এই ঘটনার জন্য দায়ীদের খুঁজে খুঁজে জেলে পাঠানো হবে। এছাড়াও অনুপ্রবেশ ইস্যুতেও মুখ্যমন্ত্রীকে বিঁধে শাহ বলেন, ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির কারণেই সীমান্ত সুরক্ষায় জমি দিচ্ছে না রাজ্য।
পাল্টা দিতে দেরি করেনি তৃণমূল কংগ্রেসও। অমিত শাহকে নিশানা করে রাজ্যের শাসক দল প্রশ্ন তুলেছে, গুজরাতে ‘ট্রিপল ইঞ্জিন’ সরকার থাকা সত্ত্বেও কেন বারবার সেতু ভেঙে পড়ে এবং নিরীহ প্রাণ যায়? তৃণমূলের সমাজমাধ্যমে লেখা হয়, “গুজরাতের সেই সব বিপর্যয়ের নেপথ্যে ‘ঈশ্বরের হাত’ নাকি ‘জালিয়াতি’, তা আগে স্পষ্ট করুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।” অনুপ্রবেশ ইস্যুতেও তৃণমূলের দাবি, সীমান্ত সুরক্ষার দায়িত্ব বিএসএফ-এর, যা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীন। ফলে অনুপ্রবেশ ঘটে থাকলে সেই ব্যর্থতা সম্পূর্ণভাবে অমিত শাহের দপ্তরের। সব মিলিয়ে বিধানসভা নির্বাচনের আগে আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ড কেন্দ্র করে রাজ্য ও কেন্দ্রের সংঘাত এখন তুঙ্গে।