কলকাতা: রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের হয়রানি এবং নাম ছাঁটাইয়ের অভিযোগ নিয়ে এবার সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বঙ্গ সফরের দিনই পাল্টা আক্রমণ শানিয়ে অভিষেক প্রশ্ন তোলেন, কেন অমর্ত্য সেন বা ঝুলন গোস্বামীর মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের শুনানির নোটিস পাঠানো হচ্ছে? শাহের ‘অনুপ্রবেশকারী’ তত্ত্বের পাল্টায় অভিষেকের প্রশ্ন, “এঁরা কি আপনার কাছে ঘুসপেটিয়া?”
নির্বাচন কমিশনের এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেন, ক্রিকেটার মহম্মদ শামি এবং দেবের (দীপক অধিকারী) পর এবার ঝুলন গোস্বামীকেও শুনানির নোটিস পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেন অভিষেক। কলকাতা বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে তিনি তোপ দাগেন, “মুখে শুধু ঘুসপেটিয়া আর অনুপ্রবেশকারীর কথা বলছেন। কিন্তু অমর্ত্য সেন, মহম্মদ শামি, দীপক অধিকারী বা ঝুলন গোস্বামী— এঁরা কি অনুপ্রবেশকারীর নমুনা?”
এদিন অনুপ্রবেশ ইস্যুতে শাহের আক্রমণের জবাবে অভিষেক পালটা প্রশ্ন তোলেন, কেন এখনও পর্যন্ত বিজেপি সরকার বাংলাদেশে বা রোহিঙ্গাদের নামের তালিকা প্রকাশ করতে পারল না? তৃণমূল নেতার অভিযোগ, বাংলায় কথা বললেই অনেককে বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা আদতে বাংলা সংস্কৃতির অপমান। উন্নয়নের প্রশ্নেও শাহকে আক্রমণ করে রাজ্যের বরাদ্দ নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ।
মতুয়া ভোটব্যাঙ্ক ও ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া প্রসঙ্গেও শাহকে আয়না দেখান অভিষেক। তিনি মনে করিয়ে দেন, তৃণমূল নয় বরং শান্তনু ঠাকুর বা অসীম সরকারের মতো বিজেপি নেতারাই দাবি করেছিলেন যে লক্ষ লক্ষ মতুয়ার নাম তালিকা থেকে বাদ যাবে। অভিষেকের কথায়, “বিজেপি নেতারাই মতুয়াদের ভয় দেখাচ্ছে। কেউ বলছেন এক লক্ষ নাম যাবে, কেউ বলছেন এক কোটি বাঙালির নাম যাবে।” নির্বাচন কমিশন কেন এখনও ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি’র পূর্ণাঙ্গ তালিকা দিচ্ছে না, তা নিয়েও কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তিনি।