নয়াদিল্লি: দিল্লির সাংবাদিক বৈঠক থেকে জাতীয় নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে একযোগে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) ইস্যুকে হাতিয়ার করে ‘এক ইঞ্চি জমি’ না ছাড়ার হুঁশিয়ারি দিলেন তৃণমূল নেত্রী। এদিন মমতা স্পষ্ট ভাষায় জানান, লড়াই হবে শেষ পর্যন্ত।
অমর্ত্য সেন-জয় গোস্বামীকে নোটিস! এদিন সংবাদমাধ্যমের সামনে নজিরবিহীন অভিযোগ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন এবং প্রখ্যাত কবি জয় গোস্বামীর মতো ব্যক্তিত্বকেও এসআইআর নোটিস পাঠাচ্ছে কমিশন। মমতা প্রশ্ন তোলেন, “ভাবতে পারেন, এঁদেরও নোটিস পাঠানো হচ্ছে!” তাঁর দাবি, বেছে বেছে বাংলাকে টার্গেট করা হচ্ছে এবং তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটিগুলোতে হাজার হাজার নাম বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে। মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভবানীপুরে ৪০ হাজার এবং অন্যান্য তৃণমূল বিধায়কদের কেন্দ্রে ৮০ হাজার থেকে এক লক্ষ পর্যন্ত নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।
‘বাঙালি মানেই বাংলাদেশি তকমা’ কেন্দ্রীয় বঞ্চনা ও এজেন্সি রাজনীতি নিয়ে সরব হয়ে মমতা বলেন, “এখন পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে বাংলা বললেই বাংলাদেশি বলে তকমা দেওয়া হচ্ছে।” তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে কাজে লাগিয়ে তৃণমূলের তথ্যচুরি করা হচ্ছে এবং নেতাদের বিনা কারণে জেলে ভরে রাখা হচ্ছে। এই অবস্থাকে গণতন্ত্রের ওপর আঘাত বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা এখন সব দরজায় কড়া নাড়ছি। এসআইআরে আক্রান্ত সাধারণ মানুষদের আপনাদের সামনে নিয়ে এসেছি, দেখুন তাঁদের কী অবস্থা।”
রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও জয়ের আত্মবিশ্বাস: বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল কী হতে পারে— সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের জবাবে মমতা বলেন, “আমি রাজনৈতিক জ্যোতিষী নই। তবে আমার মনে হয় আমরা গতবারের চেয়েও বেশি আসনে জিতব।” বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তাঁর বার্তা, “সাহস থাকলে রাজনৈতিক এবং গণতান্ত্রিকভাবে লড়াই করুন।” এসআইআর-এর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর তৃণমূলের রণকৌশল কী হবে, তা এখনই খোলসা না করলেও মমতা জানিয়ে দিয়েছেন যে লড়াই হবে জোরালো।