নয়াদিল্লি: জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংঘাত এবার চরম পর্যায়ে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে এবার ইমপিচমেন্ট বা অভিশংসন প্রস্তাব আনার পক্ষে সওয়াল করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার দিল্লির চাণক্যপুরীর নয়া বঙ্গভবনে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে এই ইঙ্গিত দেন তিনি। এসআইআর (SIR) ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সংস্থা ও বিজেপির ওপর চাপ বাড়াতে দিল্লিতে থাকা মমতা স্পষ্ট করে দিলেন, জনগণের স্বার্থে বিরোধীরা একজোট হয়ে এই পথে হাঁটলে তাঁর কোনো আপত্তি নেই।
সোমবার নির্বাচন সদনে জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে সোয়া এক ঘণ্টার বৈঠক শেষে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন মমতা। কমিশনকে ‘মিথ্যাবাদী’ ও ‘উদ্ধত’ তকমা দেওয়ার পাশাপাশি সিইসি-কে বয়কটের ডাকও দিয়েছিলেন তিনি। মঙ্গলবার সেই সুর আরও চড়িয়ে মমতা জানান, রাহুল গান্ধী যদি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারসহ অন্য কমিশনারদের বিরুদ্ধে রেট্রোস্পেকটিভ আইন বা ইমপিচমেন্টের দাবি তোলেন, তবে তৃণমূল সেই দাবিকে সমর্থন করবে। মমতার কথায়, “আমাদের নম্বর (সংসদে আসন সংখ্যা) হয়তো নেই, কিন্তু ইমপিচমেন্ট হতেই পারে। সংবিধানে ধারা রয়েছে। ইমপিচমেন্ট হলে রেকর্ড তো অন্তত হয়ে থাকবে।”
সংবিধানের ৩২৪(৫) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির মতো একই পদ্ধতিতে সংসদের দুই কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে পাস করাতে হয় এই ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব। যদিও বর্তমান গাণিতিক সমীকরণে বিরোধীদের কাছে সেই সংখ্যা নেই, তবুও রাজনৈতিকভাবে কমিশনকে কোণঠাসা করতেই এই রণকৌশল নেওয়া হচ্ছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
এদিন সাংবাদিক বৈঠকে এসআইআর ‘ক্ষতিগ্রস্ত’দের যন্ত্রণার কথা দিল্লির সংবাদমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, সম্পূর্ণ বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে কাজ করছে কমিশন। এই বৈঠকের পরেই তৃণমূল সাংসদদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন মমতা। সেখানে ইমপিচমেন্ট নিয়ে চূড়ান্ত কোনো রূপরেখা তৈরি হলো কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।