শেষ নিবিড় সংশোধনী (এসআইআর) প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে ধর্নায় বসতে চলেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আগামী ৬ মার্চ, শুক্রবার দুপুর ২টো থেকে কলকাতার মেট্রো চ্যানেলে (এসপ্ল্যানেড) অবস্থান বিক্ষোভে সামিল হবেন তিনি।
রবিবার তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে কর্মসূচির ঘোষণা করেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
তিনি জানান, ওই দিনই মুখ্যমন্ত্রী আগামী দিনের কর্মসূচিও ঘোষণা করতে পারেন।
শনিবার ভোটার তালিকার প্রথম দফা প্রকাশের পর দেখা যায়, প্রায় ৬৩ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।
এছাড়া আরও ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম ‘বিবেচনাধীন’ অবস্থায় রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
তৃণমূলের অভিযোগ, বিপুল সংখ্যক বৈধ ভোটারের নাম অন্যায়ভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। একে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থী বলেই দাবি শাসকদলের।
দলের বক্তব্য, এসআইআর-এর নামে প্রশাসনিক গাফিলতি ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
বিশেষ করে সংখ্যালঘু, পরিযায়ী শ্রমিক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বলে অভিযোগ।
প্রসঙ্গত, এসআইআর প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে তৃণমূলের সংঘাত চলছে।
বৃহস্পতিবার নিজ বিধানসভা কেন্দ্রে মুখ্যমন্ত্রী আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার ভোটার বাদ যেতে পারেন।
কিন্তু প্রকাশিত তালিকায় বাদ পড়ার সংখ্যা ৬৩ লক্ষেরও বেশি।
আর ৬০ লক্ষ ভোটার রয়েছেন বিবেচনাধীন তালিকায়।
তৃণমূলের আরও অভিযোগ, কেন্দ্রের শাসকদল বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে কাজ করছে নির্বাচন কমিশন।
রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, মন্ত্রী তাজমুল হোসেন ও আমডাঙার বিধায়ক রফিকুর রহমানের নামও বিবেচনাধীন তালিকায় রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, যাঁরা বিজেপিকে ভোট দেন না, তাঁদের বাছাই করে বাদ দেওয়া হয়েছে।
দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধর্না কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ হবে। বাদ পড়া ভোটারদের নাম অবিলম্বে তালিকায় যুক্ত করার দাবিই মূল লক্ষ্য।
প্রয়োজনে আন্দোলন আরও বৃহত্তর আকার নিতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব।