প্রথম পাতা খবর অভিষেকের উপর হামলায় সরব বিরোধীরা, বিজেপিকে নিশানা মমতা-খড়্গে-অখিলেশের

অভিষেকের উপর হামলায় সরব বিরোধীরা, বিজেপিকে নিশানা মমতা-খড়্গে-অখিলেশের

4 views
A+A-
Reset

সোনারপুরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। ঘটনার পর বিজেপি সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একই সঙ্গে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে এবং সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবও ঘটনার নিন্দা জানিয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলেছেন।

এক্স হ্যান্ডেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, ‘‘শাসকই ঘাতকে পরিণত হসোনারপুরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। ঘটনার পর বিজেপি সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একই সঙ্গে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে এবং সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবও ঘটনার নিন্দা জানিয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলেছেন।

এক্স হ্যান্ডেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, ‘‘শাসকই ঘাতকে পরিণত হয়েছে।’’ তাঁর অভিযোগ, বিরোধী কণ্ঠস্বরকে দমিয়ে দেওয়ার জন্য পরিকল্পিতভাবে এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে।
সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবও ঘটনার তীব্র নিন্দা করে লেখেন, ‘‘অভিষেকের উপর প্রাণঘাতী হামলা চালিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকার প্রমাণ করল যে তারা বিদ্বেষপূর্ণ, নেতিবাচক ও হিংসাত্মক রাজনীতি করা ছাড়া আর কিছুই করতে পারে না।’’ একই সঙ্গে তিনি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, এমন সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে পুলিশের অনুপস্থিতি বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দেয়।

কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গেও হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এক্স পোস্টে তিনি লেখেন, ‘‘অভিষেকের উপর মর্মান্তিক হামলার তীব্র নিন্দা জানাই।’’ তাঁর অভিযোগ, বিরোধী নেতার জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না থাকা বিজেপির প্রতিহিংসা ও নিপীড়নের রাজনীতিরই প্রতিফলন। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে সব বিরোধী নেতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বানও জানান তিনি।
অন্যদিকে, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য হিংসা বর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘এই ধরনের ঘটনা কাম্য নয়।’’ তবে পুলিশের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এর উত্তর রাজ্য সরকারই দিতে পারবে। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, অতীতে বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন শুভেন্দু অধিকারীর উপরও হামলার চেষ্টা হয়েছিল। তৃণমূলের আমলে বিজেপি কর্মীদের উপর অত্যাচারের বিভিন্ন ঘটনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

ঘটনা নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছে সিপিএমও। দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, ‘‘আজকের ঘটনা যেমন কাম্য নয়, তেমনই শত শত পুলিশের প্রহরায় হুঙ্কার দেওয়াও গণতন্ত্রে উচিত নয়।’’ তাঁর মতে, বিজেপি ও আরএসএস নানা কৌশলে তৃণমূলকে প্রচারের আলোয় রাখার চেষ্টা করে থাকে এবং এই ঘটনাও সেই ধরনের কোনও রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হতে পারে।
শনিবার সোনারপুরে নিহত তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের বাড়িতে যান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ, সেখানে পৌঁছনোর পরই একদল বিক্ষোভকারী তাঁর উপর চড়াও হয়। নিহত কর্মীর বাড়িতে প্রবেশের মুখে তাঁকে লক্ষ্য করে চড়-ঘুষি মারা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনায় তাঁর জামা ছিঁড়ে যায়, চশমা ভেঙে যায় এবং তাঁর ব্যবহৃত বাইকও ভাঙচুর করা হয়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। তৃণমূল হামলার জন্য সরাসরি বিজেপিকে দায়ী করেছে। অন্যদিকে, কংগ্রেস, সিপিএম এবং সমাজবাদী পার্টিও ঘটনার নিন্দা করেছে। বিজেপি হিংসা এড়ানোর বার্তা দিলেও পাল্টা রাজনৈতিক অভিযোগ তুলেছে শাসকদলের বিরুদ্ধে।

আরও খবর

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.