ফর্ম ৬ জমা ঘিরে ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। মঙ্গলবারের পর বুধবারও সকাল থেকে চাপা উত্তেজনা বজায় রয়েছে সিইও দপ্তরের সামনে। এদিন সকাল থেকেই তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকরা সেখানে ধরনা ও অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, পাশাপাশি করা হয়েছে কড়া ব্যারিকেডিং।
অভিযোগ, মঙ্গলবার গভীর রাতেও তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা সিইও দপ্তরের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখান। সেই ঘটনার প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের তরফে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, “এই ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
ফর্ম ৬ জমা নিয়েই মূলত শুরু হয়েছে এই রাজনৈতিক তরজা। তৃণমূলের অভিযোগ, এক ব্যক্তি ব্যাগভর্তি ফর্ম ৬ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে প্রবেশ করেছেন। এই ঘটনায় বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে হেয়ার স্ট্রিট থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।
অন্যদিকে, মঙ্গলবার সিইও দপ্তরের সামনে বিক্ষোভে সামিল হন তৃণমূল কর্মীরা। সেই সময় বিজেপির পক্ষ থেকেও অভিযোগ জানাতে সেখানে উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী ও শমীক ভট্টাচার্য। দুই দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বচসা তৈরি হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এদিকে, মঙ্গলবার রাতের ঘটনার পর সিইও মনোজ আগরওয়াল এবং কলকাতা পুলিশ কমিশনার অজয় কুমার নন্দার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছে বলে সূত্রের খবর। পরবর্তীতে পুলিশ কমিশনার হেয়ার স্ট্রিট থানার আধিকারিকদের সঙ্গেও কথা বলেন। বুধবার সকাল থেকে ফের সিইও দপ্তরের সামনে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের জমায়েত শুরু হয়েছে। টানা বিক্ষোভ ও পাল্টা অভিযোগে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।