“আগে শাসকের শাসন ছিল, এখন আইনের শাসন চলছে”— দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার থেকে এমনই কড়া বার্তা দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
শনিবার প্রশাসনিক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি ঘোষণা করেন, রাজ্যের পুলিশ-প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতেই ভেঙে দেওয়া হচ্ছে পুলিশ ওয়েলফেয়ার বোর্ড।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যে পুলিশ ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে। বাম আমল থেকে শুরু করে তৃণমূল সরকারের সময়েও বিরোধীদের অভিযোগ গুরুত্ব না পাওয়া, রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ বারবার সামনে এসেছে। বিরোধীদের অভিযোগ, থানায় অভিযোগ জানাতে গেলেও অনেক ক্ষেত্রে তা গ্রহণ করা হত না এবং শাসকদলের সুবিধার্থে পুলিশ ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে।
রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর প্রশাসনিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে নতুন সরকার। সেই লক্ষ্যেই পুলিশকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ করতে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে নবান্ন সূত্রে দাবি।
শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলার প্রশাসনিক কর্তারা, পুলিশ আধিকারিকরা এবং মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়াল। বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী দুর্নীতি, কাটমানি, নারী নির্যাতন, ভোট-পরবর্তী হিংসা এবং পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ক্ষেত্রে কড়া পদক্ষেপের বার্তা দেন। অভিযোগ উঠলেই দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে সম্প্রতি কলকাতা পুলিশের এক আধিকারিককে ইডি গ্রেপ্তার করায় নতুন করে পুলিশি ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ, প্রোমোটার ও অপরাধচক্রের সঙ্গে যোগসাজশে বেআইনি কার্যকলাপ চলছিল। এই ঘটনার প্রেক্ষিতেও প্রশাসনের স্বচ্ছতা বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহলের মত। এছাড়া আর জি কর হাসপাতাল সংক্রান্ত বিতর্কে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও নতুন করে তদন্ত শুরু হয়েছে। একাধিক প্রাক্তন পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সরকারের বক্তব্য, আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ নিশ্চিত করতেই এই ধরনের কঠোর অবস্থান নেওয়া হচ্ছে।