বিধানসভা ভোটের মুখে ফের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তৎপরতা ঘিরে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। রাসবিহারীর তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমারকে তলব করার পর এবার রাজ্যের দুই বিদায়ী মন্ত্রী তথা তৃণমূল প্রার্থী সু জিত বসু ও রথীন ঘোষকে ডেকে পাঠাল এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টরেট।
সূত্রের খবর, পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এই তলব। আগামী সোমবার, ৬ এপ্রিল বিধাননগরের প্রার্থী সুজিত বোসকে এবং ৮ এপ্রিল মধ্যমগ্রামের রথীন ঘকে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে।
এই মুহূর্তে দুই নেতাই নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত। ফলে তাঁরা নির্ধারিত দিনে ইডির দপ্তরে হাজিরা দেবেন, না কি সময় বাড়ানোর আবেদন করবেন—তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
এর আগেই জমি দুর্নীতি মামলায় রাসবিহারীর তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমারকে তলব করেছিল ইডি। তিনি নথিপত্র-সহ সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরাও দেন। তার পরেই আবার নতুন করে দুই হেভিওয়েট প্রার্থীকে তলব করায় রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে।
ইডির এই ধারাবাহিক তলব ঘিরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে শাসক শিবিরে। অভিযোগ উঠছে, ভোটের মুখে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির ‘অতিসক্রিয়তা’ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কি না। যদিও এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত তলব পাওয়া কোনও নেতার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যে বিভিন্ন দুর্নীতি মামলায় তদন্ত জোরদার করেছে ইডি। একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধারের ঘটনাও সামনে এসেছে। এই প্রেক্ষাপটে বিরোধী দলগুলির দাবি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ জরুরি। অন্যদিকে শাসক দলের অভিযোগ, বেছে বেছে তৃণমূল প্রার্থীদেরই নিশানা করা হচ্ছে।
ভোটের আগে এই তলব ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর যে আরও বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য।