মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর বুধবার প্রথম উত্তরবঙ্গ সফরে যাচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী। শিলিগুড়ির উত্তরকন্যায় এদিন উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলার বিধায়ক, পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠক করবেন তিনি। প্রশাসন সূত্রে খবর, বর্ষা আসন্ন হওয়ায় বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পেতে চলেছে বন্যা, হড়পা বান, ভূমিধস এবং নদীভাঙনের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলা।
এছাড়াও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, চিকিৎসা পরিষেবা, চা বাগানের সমস্যা, বেআইনি নির্মাণ এবং জমি-বালি-পাথর মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য নিয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির বার্তা দিতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। এসজেডিএ, জিটিএ, জেলা পরিষদ, গ্রাম পঞ্চায়েত ও পুরসভাগুলির অচলাবস্থা এবং দুর্নীতির অভিযোগও বৈঠকে অগ্রাধিকার পাবে বলে জানা গিয়েছে।
প্রশাসন ও বিজেপি সূত্রে খবর, সকাল ১০টায় বাগডোগরা বিমানবন্দরে নামবেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকে দলের জেলা দপ্তর হয়ে উত্তরকন্যায় পৌঁছনোর কথা রয়েছে। প্রশাসনিক বৈঠক শেষে দুপুর ২টো নাগাদ বাগডোগরা হয়ে কলকাতায় ফিরবেন তিনি। শিলিগুড়ির বর্ধমান রোডে একটি উড়ালপুলের উদ্বোধনও করার কথা রয়েছে তাঁর।
তাৎপর্যপূর্ণভাবে, উত্তরকন্যার প্রশাসনিক বৈঠকে সিতাইয়ের তৃণমূল বিধায়ক সংগীতা রায়কেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তৃণমূল সরকারের আমলে বিজেপি বিধায়কদের প্রশাসনিক বৈঠকে ডাকা হত না বলেই অভিযোগ ছিল। সরকার বদলের পরে এবার উল্টো ছবি দেখা যাচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।
এদিনের বৈঠকে দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারের বিধায়কদের পাশাপাশি পাঁচ জেলার জেলাশাসক, পুলিশ সুপার, পুলিশ কমিশনার ও শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিকরা উপস্থিত থাকবেন।
বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গে বিজেপির বিপুল সাফল্যের পর নতুন সরকারের উপর প্রত্যাশার চাপও বেড়েছে। নির্বাচনী প্রচারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে একাধিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। আইআইটি, এইমস, ক্যানসার হাসপাতাল, পাহাড় সমস্যার সমাধান এবং কামতাপুরি ভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতির মতো বিষয়ও সামনে আনা হয়েছিল।
স্বাভাবিকভাবেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রথম উত্তরবঙ্গ সফর ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। উত্তরকন্যার বৈঠকের পর তিনি কী বার্তা দেন, এখন সেদিকেই নজর সকলের।