কলকাতা পুরসভার নজরে এ বার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ দুটি সম্পত্তি। অবৈধ নির্মাণের অভিযোগে অভিষেকের মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ‘লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডস’ সংস্থার নামে জোড়া নোটিস পাঠিয়েছে পুরসভা।
পুরসভার বিল্ডিং বিভাগ কলকাতা পুর আইন, ১৯৮০-এর ৪০০(১) ধারায় এই নোটিস পাঠিয়েছে। ওই ধারায় বলা রয়েছে, কোনও নির্মাণ অনুমোদিত নকশা বা প্ল্যান বহির্ভূত হলে পুর কমিশনার তা ভাঙার নির্দেশ দিতে পারেন। তবে তার আগে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির মালিককে নোটিস পাঠানো বাধ্যতামূলক।
পুরসভার নোটিসে ভবানীপুরের ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের দু’টি ঠিকানার উল্লেখ করা হয়েছে— ১২১, কালীঘাট রোড এবং ১৮৮এ, হরিশ মুখার্জি রোড। অভিযোগ, ওই দুই জায়গায় অনুমোদিত প্ল্যানের বাইরে কিছু নির্মাণ করা হয়েছে।
নোটিসে বলা হয়েছে, সাত দিনের মধ্যে ওই অবৈধ অংশ ভেঙে ফেলতে হবে। যদি সম্পত্তির মালিক তা না করেন, তবে কেন পুরসভা নিজে সেই অংশ ভাঙবে না, তার কারণ দর্শাতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না মিললে পুরসভা কম সময়ের নোটিসেই ভাঙার পদক্ষেপ করতে পারে। সেই ক্ষেত্রে ভাঙার খরচও বহন করতে হবে সম্পত্তির মালিককেই।
এছাড়া সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যান, নকশা এবং অন্যান্য নথিও জমা দিতে বলা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, শনিবার ফলতার নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেছিলেন। তিনি দাবি করেন, কলকাতায় ‘লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর ২৪টি সম্পত্তি রয়েছে। পাশাপাশি আমতায় ওই সংস্থার ‘প্রাসাদের মতো অফিস’-এর কথাও উল্লেখ করেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, “হিসাব হবে।”
ঘটনাচক্রে, সেই মন্তব্যের কয়েক দিনের মধ্যেই অভিষেকের মা এবং ‘লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর নামে পুরসভার নোটিস ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ‘লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডস’ সংস্থার নাম আগেও উঠে এসেছে। ইডির অভিযোগ ছিল, ওই সংস্থার মাধ্যমে দুর্নীতির টাকা লেনদেন বা সাদা করা হয়েছে। সেই মামলায় একাধিক বার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তলবও করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।