দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে আজ ফের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে কেন্দ্রের ২৮৫টি বুথে পুনর্নির্বাচন চলছে। সকাল থেকেই বিভিন্ন বুথে ভোটারদের লাইন দেখা গিয়েছে। নিরাপত্তার জন্য মোতায়েন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। ৯টা পর্যন্ত ভোটদানের হার ২০.৪৭ শতাংশ
গত ২৯ এপ্রিল রাজ্যের শেষ দফার ভোটে ফলতার একাধিক বুথে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ ছিল, ইভিএমে আতর, কালি ও টেপ লাগানো হয়েছিল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। পুনর্নির্বাচনের দাবি তোলেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীও। পরে নির্বাচন কমিশন গোটা কেন্দ্রেই নতুন করে ভোটের সিদ্ধান্ত নেয়।
এরপর ৪ মে রাজ্যের বাকি ২৯৩টি আসনের ফল প্রকাশিত হয় এবং বিজেপি প্রথমবারের জন্য বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাজ্যের ক্ষমতায় আসে। তবে ফলতার ভোট স্থগিত ছিল।
পুনর্নির্বাচনের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে বড় রাজনৈতিক নাটক দেখা যায়। তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান, যিনি ‘পুষ্পা’ নামেও পরিচিত, ঘোষণা করেন যে তিনি ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, “আমি চাই ফলতা শান্তিতে থাকুক, সুস্থ থাকুক এবং আরও উন্নয়ন হোক। সেই কারণেই আমি এই পুনর্নির্বাচনের লড়াই থেকে নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছি।”
যদিও তৃণমূলের তরফে জানানো হয়েছে, এটি জাহাঙ্গিরের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, দলের নয়। মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় ইভিএমে তাঁর নাম ও তৃণমূলের প্রতীক থাকছেই।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, গত কয়েকটি নির্বাচনে তাঁরা ঠিকমতো ভোট দিতে পারেননি। তাঁদের দাবি, জাহাঙ্গিরের অনুগামীরা ভোটকেন্দ্রে বাধা দিত। অনেককে হাতে কালি লাগিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হত বলেও অভিযোগ উঠেছে।
পুনর্নির্বাচনের দিন অবশ্য জাহাঙ্গিরের কোনও খোঁজ মেলেনি। তাঁর বাড়ি এবং দলীয় কার্যালয়ে তালা ঝুলতে দেখা যায়। ডাকাডাকি করেও কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি।
এদিকে বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডার সমর্থনে ফলতায় রোড শো করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজনৈতিক মহলের নজর এখন ফলতার পুনর্নির্বাচনের ফলাফলের দিকে।