প্রথম পাতা খবর সরকারি কর্মীদের জন্য কড়া নির্দেশিকা রাজ্যের, অনুমতি ছাড়া মিডিয়ায় মন্তব্যে নিষেধাজ্ঞা

সরকারি কর্মীদের জন্য কড়া নির্দেশিকা রাজ্যের, অনুমতি ছাড়া মিডিয়ায় মন্তব্যে নিষেধাজ্ঞা

10 views
A+A-
Reset

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে রাজ্য সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই একের পর এক কড়া প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। বুধবার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করল নবান্ন। সরকারি কর্মচারী ও আধিকারিকদের সংবাদমাধ্যমে মন্তব্য করা, সরকারি নথি প্রকাশ করা বা বিভিন্ন মিডিয়া অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার উপর কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।

মুখ্যসচিব মনোজ অগ্রবালের স্বাক্ষরিত এই নির্দেশিকা রাজ্যের সমস্ত দফতর, জেলা প্রশাসন, কমিশনার এবং পুলিশ প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়েছে। নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, দ্রুত এই নিয়ম অধীনস্থ সমস্ত অফিসে কার্যকর করতে হবে।

নবান্ন সূত্রে খবর, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু সরকারি কর্মচারীর সংবাদমাধ্যমে মন্তব্য, সামাজিক মাধ্যমে মত প্রকাশ এবং প্রশাসনিক তথ্য বাইরে চলে যাওয়ার অভিযোগের জেরেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আইএএস, ডব্লিউবিসিএস, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ সার্ভিসের আধিকারিকদের পাশাপাশি রাজ্যের অন্যান্য সরকারি কর্মচারী, জেল কর্মী, সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পুরসভা, পুর নিগম এবং বিভিন্ন স্বশাসিত সংস্থার কর্মীদের ক্ষেত্রেও এই নির্দেশ প্রযোজ্য হবে।

সরকারি অনুমতি ছাড়া কোনও কর্মচারী মিডিয়া প্রোগ্রামে অংশ নিতে পারবেন না। এমনকি বেসরকারি বা স্পনসরড অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হবে।

এ ছাড়া সংবাদমাধ্যমের কাছে কোনও সরকারি তথ্য, নথি বা প্রশাসনিক কাগজপত্র সরাসরি বা পরোক্ষভাবে তুলে দেওয়াও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সরকারের অনুমতি ছাড়া কোনও সংবাদপত্র বা সাময়িকীতে লেখা, সম্পাদনা বা পরিচালনার কাজেও যুক্ত থাকা যাবে না। রেডিও বা অন্য সম্প্রচার মাধ্যমেও বক্তব্য রাখার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম কার্যকর থাকবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, সরকারি কর্মচারীদের কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সমালোচনা বা বিরূপ মন্তব্য করা থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে। কোনও বক্তব্য যদি কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক বা বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, তবে তা শাস্তিযোগ্য বলে গণ্য হবে।

প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, এই নির্দেশিকার ফলে সরকারি কর্মচারীদের মত প্রকাশের ক্ষেত্র আরও সীমিত হয়ে গেল। যদিও সরকারের দাবি, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সরকারি তথ্যের অপব্যবহার রুখতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।

রাজ্য প্রশাসন জানিয়েছে, এই আচরণবিধি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে। নির্দেশিকা ভাঙলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

আরও খবর

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.