জ্বালানি সাশ্রয় এবং সরকারি খরচ কমানোর বার্তা এবার কার্যত বাস্তবে রূপ দিল পুরুলিয়া জেলা প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ডাকা দুর্গাপুরের প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিতে সরকারি গাড়ির বদলে বাসে চড়ে রওনা দিলেন জেলার শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিকরা।
বৃহস্পতিবার সকালে পুরুলিয়া জেলা প্রশাসনিক ভবন থেকে জেলাশাসক সুধীর কোন্থম, অতিরিক্ত জেলাশাসক, মহকুমাশাসক এবং বিডিওরা একসঙ্গে দু’টি বাসে দুর্গাপুরের উদ্দেশে রওনা দেন। পুলিশের আধিকারিকরাও গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে ওই বৈঠকে যোগ দিতে যান।
জেলাশাসক সুধীর কোন্থম জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্প্রতি দেশবাসীর কাছে জ্বালানির ব্যবহার কমানোর আবেদন করেছিলেন। পাশাপাশি রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়ালও সরকারি গাড়ির ব্যবহার কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন। সেই নির্দেশ মেনেই বাসে যাত্রার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জেলাশাসক বলেন, “এটা শুধু সরকারি নির্দেশ পালন নয়, প্রধানমন্ত্রীর বার্তাকে সাধারণ মানুষের কাছেও পৌঁছে দেওয়ার একটি উদ্যোগ।”
সম্প্রতি কলকাতায় বিধায়কদেরও বাসে চড়ে বিধানসভায় যেতে দেখা গিয়েছিল। এবার জেলা প্রশাসনের এই পদক্ষেপ নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিন দুপুরে দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারের সৃজনী প্রেক্ষাগৃহে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠক হওয়ার কথা। সেখানে পশ্চিমাঞ্চলের পাঁচ জেলা— পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান, পূর্ব বর্ধমান এবং বীরভূমের প্রশাসনিক ও পুলিশ আধিকারিকরা অংশ নেবেন। বিডিও, ওসি-আইসি, বিধায়ক ও সাংসদদেরও উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, বৈঠকে উন্নয়ন ও প্রশাসনিক খরচ কমানো নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। মুখ্যসচিবের দেওয়া ৭ দফা নির্দেশিকা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য তাৎক্ষণিক, মধ্যমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদি অ্যাকশন প্ল্যান তৈরির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
আগামী শুক্রবারের মধ্যে সেই রিপোর্ট মুখ্যসচিবের দপ্তরে জমা দিতে হবে। পাশাপাশি ১ জুলাই থেকে প্রতি মাসে এই সংক্রান্ত অগ্রগতি রিপোর্ট পাঠানোর নির্দেশও জারি হয়েছে।