তারাতলার নির্মীয়মাণ গুদাম ধসের ঘটনায় মৃতদের পরিবারের জন্য ১০ লক্ষ টাকা এবং আহতদের জন্য ১ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় বিবৃতি দিতে গিয়ে তিনি জানান, এখনও পর্যন্ত ২৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বাকিরা এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তবে ধ্বংসস্তূপের নীচে এখনও কয়েক জন আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাঁদের উদ্ধারে জাতীয় ও রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে, ঘটনার তদন্তে বড় পদক্ষেপ করেছে কলকাতা পুলিশ। গুদামের মালিক শম্ভুনাথ বেহরাকে বুধবার গভীর রাতে তারাতলা এলাকার একটি আবাসন থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে আরও চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার কমল সামন্ত, সুপারভাইজ়ার সৈয়দ মহম্মদ গুলজ়ার, শ্রমিক সরবরাহকারী দিবাকর ভান্ডারী এবং বিল্ডিং প্ল্যান পাশ করানোর সঙ্গে যুক্ত ব্রোকার আবদুল হামিদ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার রাতেই গুদামের সুপারভাইজ়ার-সহ মোট ন’জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তদন্তের ভিত্তিতে পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে। তদন্তকারী দলে রয়েছেন কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার পদমর্যাদার এক আধিকারিক, হোমিসাইড শাখার ওসি-সহ গোয়েন্দা বিভাগের চার জন এবং তারাতলা থানার দু’জন সাব-ইন্সপেক্টর। গোটা তদন্তের তত্ত্বাবধানে থাকবেন গোয়েন্দা বিভাগের ডেপুটি কমিশনার।
বৃহস্পতিবার সকালেও ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে। হাইড্রোলিক ক্রেন দিয়ে ভেঙে পড়া বিশাল লোহার কাঠামো ধরে রেখে ধাপে ধাপে ধ্বংসস্তূপ সরানো হচ্ছে। গ্যাস কাটারের সাহায্যে লোহার বিম কেটে আটকে থাকা শ্রমিকদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন উদ্ধারকারীরা।
সরকারি হিসেবে মৃতদের মধ্যে রয়েছেন কৃষ্ণ চৌধুরী, রোহিত চৌধুরী, চন্দ্রমা চৌধুরী, রাহুল চৌধুরী, পাপ্পুকুমার রজক, ঘি কুমার, আসগর হুসেন এবং সাহিল সর্দার। আরও এক মৃতের পরিচয় নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া চলছে।
প্রসঙ্গত, বুধবার দুপুর ১২টা ৭ মিনিটে তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদামটির ছাদ আচমকাই ভেঙে পড়ে। লোহার বিম ও কংক্রিটের স্তূপের নীচে চাপা পড়েন অন্তত ৪০ জন শ্রমিক। প্রথমে পুলিশ, দমকল এবং রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী উদ্ধারকাজ শুরু করে। পরে রাজ্য সরকারের অনুরোধে ভারতীয় সেনা ও জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ) উদ্ধার অভিযানে যোগ দেয়।
কলকাতা পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, বন্দর কর্তৃপক্ষের জমিটি ২০২৪ সালের অগস্টে ৩০ বছরের জন্য ‘বেহরা ব্রাদার্স’ সংস্থাকে লিজ় দেওয়া হয়েছিল। চা-পাতা সংরক্ষণ ও প্যাকেজিংয়ের জন্য গুদামটি তৈরি করা হচ্ছিল। সংস্থার অন্যতম মালিক শম্ভুনাথ বেহরাই নির্মাণকাজের দায়িত্বে ছিলেন। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে।