প্রথম পাতা খবর এ বার ধাপে ধাপে গোটা রাজ্যে! কেন ইসকনকে মিড-ডে মিলের দায়িত্ব ফের ব্যাখ্যা মুখ্যমন্ত্রীর

এ বার ধাপে ধাপে গোটা রাজ্যে! কেন ইসকনকে মিড-ডে মিলের দায়িত্ব ফের ব্যাখ্যা মুখ্যমন্ত্রীর

11 views
A+A-
Reset

: কলকাতার সরকারি স্কুলগুলিতে মিড ডে মিল সরবরাহের দায়িত্ব ইসকনের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্ক এখনও অব্যাহত। এবার সেই প্রকল্প ধাপে ধাপে নদিয়া হয়ে গোটা রাজ্যে সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথাও সামনে এসেছে। এই আবহে বৃহস্পতিবার কলকাতার অ্যালবার্ট রোডের ইসকন মন্দিরে রথযাত্রার অনুষ্ঠানে সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা ইসকন, রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন, ভারত সেবাশ্রম সংঘ এবং মানুষের সেবায় নিয়োজিত অন্যান্য সংগঠনকে সঙ্গে নিয়েই বাংলার নবনির্মাণের পথে এগোতে চাই। সমাজের উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি এই প্রতিষ্ঠানগুলির ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

তিনি জানান, সরকারের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল স্কুলপড়ুয়া শিশুদের পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা।

“মিড ডে মিল গ্রহণকারী ছাত্রছাত্রীরা মূলত মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের সন্তান। অপুষ্টি দূর করতে উন্নত মানের খাবার পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি,” বলেন মুখ্যমন্ত্রী।

দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তৃণমূলকে আক্রমণ

মিড ডে মিল প্রকল্পে পূর্বতন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের প্রসঙ্গও তোলেন শুভেন্দু।

তাঁর বক্তব্য, “শিশুদের খাবার নিয়ে অনিয়ম করা পাপের সমান। গত কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গে মিড ডে মিল নিয়ে যে ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। আগামী দিনে ইসকন এই দায়িত্ব পালন করে শিশুদের কাছে উন্নতমানের পুষ্টিকর খাবার পৌঁছে দেবে। সেটাই আমাদের কর্তব্য।”

কলকাতা থেকে শুরু, পরে গোটা রাজ্যে

গত ২২ জুন বিধানসভায় বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেট পেশের পর সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন, পাইলট প্রকল্প হিসেবে কলকাতার সমস্ত স্কুলে মিড ডে মিল সরবরাহ করবে ইসকন। পরে ধাপে ধাপে এই প্রকল্প নদিয়া এবং রাজ্যের অন্যান্য জেলাতেও চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সেই সময় শুভেন্দু বলেছিলেন, “ইসকন ভালো খাবার দেবে, শুদ্ধ খাবার দেবে। কারও আপত্তি থাকলে হরে কৃষ্ণ বলতে হবে না। কেউ আপনাদের জোর করবে না। চিন্তার কোনও কারণ নেই।”

বিতর্ক পৌঁছেছে আদালতেও

সরকারের এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বিভিন্ন মহলে বিতর্ক শুরু হয়। বিরোধীদের একাংশের অভিযোগ, একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের হাতে সরকারি প্রকল্পের দায়িত্ব দেওয়া উচিত নয়। বিষয়টি নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলাও দায়ের হয়েছে।

যদিও সরকারের দাবি, এই সিদ্ধান্তের একমাত্র উদ্দেশ্য হল রাজ্যের স্কুলপড়ুয়াদের স্বাস্থ্যসম্মত, নিরাপদ এবং পুষ্টিকর খাবার পৌঁছে দেওয়া।

আরও খবর

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.