সাধনা দাস বসু: ইসকন কলকাতার উদ্যোগে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ঐতিহ্যবাহী ৫৫তম বার্ষিক কলকাতা রথযাত্রা। এবারের রথযাত্রার মূল থিম ‘ভারতের ভূমি–মন্দির সংস্কৃতির ঐতিহ্য’। বর্তমান অশান্ত ও অস্থির বিশ্বে শান্তি, সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং মানবিক মূল্যবোধের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই এবারের রথযাত্রার মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছে ইসকন।
মঙ্গলবার কলকাতার গুরুসদয় রোডে ইসকনের কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে এই কর্মসূচির বিস্তারিত ঘোষণা করেন ইসকন কলকাতার সেক্রেটারি অনঙ্গ মোহন দাস।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় মধ্য কলকাতার অ্যালবার্ট রোডের ইসকন মন্দির থেকে রথযাত্রার সূচনা হবে। আয়োজকদের দাবি, অনুষ্ঠানের সূচনায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রতীকী ‘ছেড়া পাহাড়া’ (Chera Pahara) সেবায় অংশ নিয়ে স্বর্ণঝাড়ু দিয়ে পথ পরিশোধন করবেন এবং রথের প্রথম রশি টেনে যাত্রার উদ্বোধন করবেন।
রথযাত্রায় শ্রীজগন্নাথদেব, বলভদ্র ও সুভদ্রা দেবী পৃথক তিনটি রথে বিরাজ করবেন। অ্যালবার্ট রোড থেকে যাত্রা শুরু করে হাঙ্গারফোর্ড স্ট্রিট, এ জে সি বোস রোড, শরৎ বোস রোড, হাজরা রোড, এস পি মুখার্জি রোড, এক্সাইড মোড়, চৌরঙ্গি রোড, জওহরলাল নেহরু রোড এবং আউট্রাম রোড হয়ে রথ পৌঁছবে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে মাসির বাড়িতে।
ইসকন মায়াপুর ও ইসকন কলকাতার লিগ্যাল অ্যান্ড কমিউনিকেশন ডিরেক্টর অনন্ত ভগবান দাস জানান, রাশিয়া, আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বহু ভক্ত এবার কলকাতার রথযাত্রায় অংশ নেবেন। পাশাপাশি লক্ষাধিক সাধারণ মানুষের সমাগমও হবে বলে তাঁদের আশা।
ব্রিগেডে মহামেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মহাপ্রসাদ
রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হবে শ্রীশ্রী জগন্নাথ মহামেলা। এবারের অন্যতম আকর্ষণ গুণ্ডিচা মন্দিরের প্রতিরূপ, যা তিরুপতির শ্রী বালাজি মন্দিরের স্থাপত্যশৈলী অনুসরণ করে নির্মাণ করা হচ্ছে।
উল্টোরথ পর্যন্ত প্রতিদিন সন্ধ্যায় থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের খ্যাতনামা নৃত্যশিল্পী ও পদ্মশ্রী সম্মানপ্রাপ্ত শিল্পীদের পরিবেশনার পাশাপাশি থাকবে ভক্তিমূলক নাটক, হরিনাম সংকীর্তন, আধ্যাত্মিক আলোচনা এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠান।
এছাড়াও প্রতিদিন বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খিচুড়ি মহাপ্রসাদ বিতরণের ব্যবস্থা থাকবে।
ঐতিহ্য ও আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধন
ইসকন কলকাতার রথযাত্রার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল ঐতিহ্য ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়। আয়োজকদের দাবি, তিনটি রথই ঐতিহ্যবাহী নকশা বজায় রেখে আধুনিক প্রকৌশল প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি করা হয়েছে, যাতে কলকাতার ব্যস্ত রাস্তায় নিরাপদে শোভাযাত্রা সম্পন্ন করা যায়।
উল্লেখযোগ্যভাবে, গত বছর বহু দশক ধরে ব্যবহৃত বোয়িং ৭৪৭ বিমানের চাকার পরিবর্তে রথে সুখোই–৩০ যুদ্ধবিমানের চাকা সংযোজন করা হয়েছিল, যা দর্শকদের বিশেষ আকর্ষণ কেড়েছিল।
ইসকনের মতে, রথযাত্রা শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়; বর্তমান বিশ্বে শান্তি, সম্প্রীতি, আশা ও ঐক্যের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার একটি সার্বজনীন উদ্যোগ। এবারের রথযাত্রাও সেই বার্তাকেই আরও জোরালোভাবে তুলে ধরবে।