শ্রাবণ মাসে দেবাদিদেব মহাদেবের জলাভিষেক উপলক্ষে তারকেশ্বরে লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগমকে সামনে রেখে পরিষেবা আরও জোরদার করেছে পূর্ব রেল। চলমান শ্রাবণী মেলা উপলক্ষে পুণ্যার্থীদের নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে একাধিক বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে যাত্রী পরিষেবা, ভিড় নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা ও অপারেশনাল প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে হাওড়া ডিভিশনের তারকেশ্বর রেলওয়ে স্টেশনে পূর্ণাঙ্গ পরিদর্শন করেছেন পূর্ব রেলের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা।
পূর্ব রেলের তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার শুধুমাত্র তারকেশ্বর রেলওয়ে স্টেশনেই প্রায় ১.৬০ লক্ষ পুণ্যার্থীর যাতায়াত নথিভুক্ত হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই সংখ্যা ৩৪.৩০ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে, শেওড়াফুলি স্টেশন দিয়ে ৮৩,৯৬৩ জন পুণ্যার্থী যাতায়াত করেছেন, যা গত বছরের তুলনায় ২৬.৬৪ শতাংশ বৃদ্ধি।
এই বিপুল জনসমাগম সামাল দিতে তারকেশ্বর স্টেশনে মোট ৫,৯২০ জন যাত্রীর ধারণক্ষমতাসম্পন্ন তিনটি অস্থায়ী হোল্ডিং এরিয়া তৈরি করা হয়েছে। সেখানে পর্যাপ্ত আলো, পাখা, পানীয় জল এবং মোবাইল চার্জিংয়ের মতো প্রয়োজনীয় সুবিধার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
টিকিট পরিষেবাও আরও সহজ করতে ১১টি অতিরিক্ত ইউটিএস (UTS) কাউন্টার, ৭টি মোবাইল ইউটিএস কাউন্টার এবং ১০টি সহায়ক কর্মী পরিচালিত এটিভিএম (ATVM) চালু করা হয়েছে।
পুণ্যার্থীদের অতিরিক্ত চাপ সামলাতে হাওড়া, শেওড়াফুলি, বর্ধমান ও তারকেশ্বরের মধ্যে ১৪ জোড়া অতিরিক্ত ইএমইউ স্পেশাল ট্রেন চালানো হয়েছে। শ্রাবণী মেলার প্রথম তিনটি ব্যস্ত সপ্তাহান্তে মোট ২৪৬টি স্পেশাল ট্রেন ট্রিপ পরিচালনা করেছে পূর্ব রেল। এছাড়াও, জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত ট্রেন চালানোর জন্য তারকেশ্বরে একটি ডেডিকেটেড ইএমইউ স্ক্র্যাচ রেক প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তারকেশ্বর স্টেশনে ৭০টি সিসিটিভি ক্যামেরা, যার মধ্যে ২৫টি সৌরশক্তি চালিত, দিয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে। সমস্ত ক্যামেরার লাইভ ফিড একটি বিশেষ রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স (RPF) ওয়াররুমে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
প্রতি রবিবার ও সোমবার ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রায় ৪১০ জন আরপিএফ কর্মী মোতায়েন করা হচ্ছে। তাঁদের সঙ্গে সরকারি রেলওয়ে পুলিশ (GRP), হুগলি জেলা পুলিশ, সিভিল ডিফেন্স এবং স্থানীয় প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
এছাড়াও, মেলার পুরো সময় জুড়ে অ্যাম্বুল্যান্স, জরুরি চিকিৎসা দল এবং সিপিআর (CPR)-প্রশিক্ষিত রেলকর্মী মোতায়েন রাখা হয়েছে, যাতে কোনও জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া যায়।
পূর্ব রেলের দাবি, শ্রাবণী মেলায় বিপুল সংখ্যক পুণ্যার্থীর নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে যাত্রী পরিষেবা, অতিরিক্ত ট্রেন, নিরাপত্তা এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।