প্রথম পাতা খবর ‘৪৮ ঘণ্টার ডেডলাইন’! জ্ঞানেশের ইস্তফা না হলে দেশজুড়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি CJP-র

‘৪৮ ঘণ্টার ডেডলাইন’! জ্ঞানেশের ইস্তফা না হলে দেশজুড়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি CJP-র

8 views
A+A-
Reset

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের জন্য ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিল ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে এই দাবি জানায় সংগঠনটি। সময়সীমার মধ্যে পদত্যাগ না হলে দেশজুড়ে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। CJP-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে-র নেতৃত্বে সাংবাদিক বৈঠকে সংগঠনের একাধিক দাবি সামনে আনা হয়।

CJP-র প্রথম দাবি, জ্ঞানেশ কুমারকে অবিলম্বে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে ইস্তফা দিতে হবে। একইসঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা শুরুর দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি। তাঁদের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে জ্ঞানেশ কুমারকে কারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে প্রকাশ্যে আনতে হবে। এই দাবিগুলি অবশ্য CJP-র অভিযোগ ও দাবি; এগুলির সত্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।

SIR বন্ধ, নির্বাচন স্থগিতের দাবি

CJP-র দ্বিতীয় দাবির মধ্যে রয়েছে SIR বা Special Intensive Revision অবিলম্বে বন্ধ করা। পাশাপাশি সামনে থাকা নির্বাচনগুলি স্থগিত রাখার দাবি জানিয়েছে তারা।

সংগঠনটির আরও দাবি, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে কার্যকর থাকা ভোটার তালিকা পুনরায় ফিরিয়ে আনতে হবে। SIR-এর সিদ্ধান্ত গ্রহণের পুরো প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখতে একটি নিরপেক্ষ কমিটি গঠনের দাবিও জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে SIR সংক্রান্ত সমস্ত নথি সংরক্ষণের জন্য সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ চেয়েছে CJP।

২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন বাতিলের দাবি

CJP-র তৃতীয় দাবি, ২০২৩ সালে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত যে আইন তৈরি হয়েছিল, তা বাতিল করতে হবে। পরিবর্তে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য নতুন আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে তারা। নতুন আইন তৈরির প্রক্রিয়ায় নাগরিক সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার কথাও বলেছে সংগঠনটি।

সাংবাদিক বৈঠকে অভিজিৎ দীপকে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ না করলে দেশজুড়ে আন্দোলনের ডাক দেন। তাঁর বক্তব্যের সেই অংশগুলি CJP-র রাজনৈতিক অবস্থান ও অভিযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে, প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে নয়।

ফের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

CJP এর আগেও নির্বাচন ও ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যুতে আন্দোলন করেছে। সংগঠনটির এবারের কর্মসূচি সামনে এসেছে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য নিয়ে The Indian Express-এর একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের পর।

ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সঁধু এবং বিবেক জোশী গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাঁদের আপত্তির মধ্যে SIR, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তির মতো বিষয় ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এই প্রতিবেদনের পর নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, SIR-সহ কমিশনের সমস্ত সিদ্ধান্তই তিন নির্বাচন কমিশনারের অনুমোদন নিয়ে নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, কমিশনের তরফে অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের ফলে সিদ্ধান্ত একতরফাভাবে নেওয়া হয়েছে—এই ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতেই CJP-র ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা এবং দেশজুড়ে ফের আন্দোলনের ঘোষণাকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক ও নাগরিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

আরও খবর

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.