প্রথম পাতা খবর নেতাজি-‘অপমান’ বিতর্কের জের, অনন্ত মহারাজের বঙ্গবিভূষণ প্রত্যাহার শুভেন্দু সরকারের

নেতাজি-‘অপমান’ বিতর্কের জের, অনন্ত মহারাজের বঙ্গবিভূষণ প্রত্যাহার শুভেন্দু সরকারের

11 views
A+A-
Reset

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে ‘অপমান’ করার অভিযোগ ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই রাজ্যসভার বিজেপি সাংসদ অনন্ত মহারাজের বঙ্গবিভূষণ সম্মান প্রত্যাহার করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বৃহস্পতিবার রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের তরফে এই মর্মে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অনন্ত মহারাজের কাছে বঙ্গবিভূষণ থাকা এই সম্মানের মর্যাদা ও প্রতিপত্তির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

২০২৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষাদিবসের অনুষ্ঠানে অনন্ত মহারাজকে বঙ্গবিভূষণ সম্মান দেওয়া হয়েছিল। দেশপ্রিয় পার্কের অমর একুশে উদ্যানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর হাতে এই সম্মান তুলে দেন। বিধানসভা নির্বাচনের আগে দেওয়া সেই সম্মান এবার প্রত্যাহার করল রাজ্যের নতুন সরকার।

বৃহস্পতিবারের সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রাজ্য এবং রাজ্যবাসীর প্রতি বিশিষ্ট অবদানের স্বীকৃতি হিসাবেই অনন্ত মহারাজকে বঙ্গবিভূষণ সম্মান দেওয়া হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে কিছু বিষয় সরকারের নজরে এসেছে, যা অত্যন্ত গুরুতর বলে উল্লেখ করা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, ওই বিষয়গুলি বিবেচনা করে দেখা গিয়েছে, অনন্ত মহারাজের কাছে বঙ্গবিভূষণ থাকা এই সম্মানের মর্যাদা ও প্রতিপত্তির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তাই তাঁকে দেওয়া বঙ্গবিভূষণ অবিলম্বে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, বঙ্গবিভূষণ প্রত্যাহারের পর অনন্ত মহারাজ আর নিজেকে এই সম্মানের প্রাপক হিসাবে পরিচয় দিতে পারবেন না।

সম্প্রতি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে অনন্ত মহারাজের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়। সেই বিতর্কের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পুলিশকে নেতাজিকে নিয়ে ‘অপমানজনক’ বা ‘মিথ্যা’ প্রচারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন বলেও বার্তা দিয়েছিলেন তিনি।

এর পরেই অনন্ত মহারাজের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়। এবার তাঁর কাছ থেকে বঙ্গবিভূষণ সম্মান প্রত্যাহারের সরকারি সিদ্ধান্ত সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল।

রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে কয়েক মাস আগেই যে সম্মান দেওয়া হয়েছিল, তা এবার প্রত্যাহার করায় বিষয়টি রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও খবর

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.