০২৭ সালের ষোড়শ জনগণনার প্রশ্নপত্রে আরও সাতটি প্রশ্ন যুক্ত হল। প্রথম বিজ্ঞপ্তিতে যেখানে ৩৩টি প্রশ্নের তালিকা ছিল, বৃহস্পতিবার প্রকাশিত দ্বিতীয় বিজ্ঞপ্তিতে সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৪০। কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, জনগণনার তথ্য সংগ্রহের সময় ধর্মীয় ও জাতিগত পরিচয়-সহ একাধিক নতুন তথ্য জানাতে হবে। কোভিড টিকা নেওয়া হয়েছে কি না, সেই তথ্যও সংগ্রহ করা হবে।
ভারতের রেজিস্ট্রার জেনারেল মৃত্যুঞ্জয় কুমার নারায়ণের আদেশে এই নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।
গত ১ এপ্রিল থেকেই ২০২৭ সালের জনগণনার প্রথম পর্যায়ের কাজ শুরু হয়েছে। বাড়ির তালিকা তৈরি, বাড়ির অবস্থা এবং পরিকাঠামো সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের পর এ বার শুরু হবে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মূল তথ্য সংগ্রহের পর্ব। দেশের অধিকাংশ অংশে ১৬ অগস্ট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে Population Enumeration।
তবে লাদাখ, জম্মু ও কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ডের তুষারাবৃত এলাকাগুলিতে আলাদা সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। সেখানে ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জনগণনার তথ্য সংগ্রহ হবে।
‘স্ব-শুমারি’র সুযোগ
বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের আগে নাগরিকদের জন্য Self Enumeration বা ‘স্ব-শুমারি’র সুযোগও থাকছে। নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১৭ থেকে ৩১ অগস্ট পর্যন্ত এই ব্যবস্থা চালু থাকবে। পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের বাকি অংশে জনগণনার দ্বিতীয় পর্যায় আগামী বছর ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়ার কথা।
প্রথম পর্যায়ের প্রশ্নপত্রে আগে ৩৩টি প্রশ্ন ছিল। সেখানে পরিবারের সদস্য সংখ্যা, বাড়ির অবস্থা, ঘরের মেঝে, শৌচাগার, স্নানাগার, নিকাশি ব্যবস্থা, পানীয় জল এবং জ্বালানির মতো বিষয় জানতে চাওয়া হয়েছে।
এ ছাড়াও পরিবারের কাছে মোবাইল, ল্যাপটপ, ইন্টারনেট, সাইকেল বা মোটরবাইক রয়েছে কি না, সেই তথ্যও নেওয়া হবে। বাড়িতে মূলত কী ধরনের খাদ্যশস্য ব্যবহার করা হয়, সেই প্রশ্নও রয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের লিঙ্গ, বৈবাহিক অবস্থা-সহ বিভিন্ন তথ্যের পাশাপাশি মোবাইল নম্বর, আধার, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্সের মতো পরিচয় সংক্রান্ত তথ্যও নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী, এই তথ্য জনগণনা সংক্রান্ত কাজেই ব্যবহার করা হবে।
ধর্ম ও জাতিগত পরিচয়ের তথ্য
নতুন সাতটি প্রশ্ন যুক্ত হওয়ার ফলে জনগণনার তথ্য সংগ্রহের পরিধি আরও বাড়ল। এবার ধর্মীয় পরিচয়ের পাশাপাশি জাতিগত পরিচয় সম্পর্কেও তথ্য নেওয়া হবে। বিশেষ করে কোনও ব্যক্তি তফসিলি জাতি বা তফসিলি জনজাতির অন্তর্ভুক্ত কি না, সেই তথ্যও সংগ্রহ করা হবে।
এর পাশাপাশি কোভিড টিকা নেওয়া হয়েছে কি না, সেই তথ্যও জনগণনার প্রশ্নপত্রে যুক্ত হয়েছে।
২০২৭ সালের জনগণনার দ্বিতীয় পর্যায়ে ধর্মীয় ও জাতিগত পরিচয়, সংস্কৃতি-সহ আরও বিভিন্ন সামাজিক তথ্য সংগ্রহ করা হবে। জনগণনায় জাতি গণনা অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার রাজনৈতিক বিষয়ক কমিটি গত বছরের ৩০ এপ্রিল নিয়েছিল।
ফলে নতুন জনগণনা শুধু দেশের জনসংখ্যার হিসাব নয়, মানুষের সামাজিক, পারিবারিক এবং আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতির একটি বিস্তৃত চিত্রও তুলে ধরতে চলেছে।