প্রথম পাতা খবর কলকাতা-হাওড়া পুরভোটে একাই লড়বে বিজেপি, NCPI-র সঙ্গে জোটের সম্ভাবনা খারিজ

কলকাতা-হাওড়া পুরভোটে একাই লড়বে বিজেপি, NCPI-র সঙ্গে জোটের সম্ভাবনা খারিজ

110 views
A+A-
Reset

কলকাতা ও হাওড়া পুরসভা নির্বাচনে বিজেপি একাই লড়বে। এনডিএ-র কোনও শরিক দলের সঙ্গে আসন সমঝোতার পরিকল্পনা নেই বলেই বুধবার স্পষ্ট করে দিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর এই বক্তব্যে কার্যত বিজেপির সঙ্গে NCPI-এর পুরভোটে জোটের সম্ভাবনা খারিজ হয়ে গেল।

এর আগে NCPI-এর সাংসদরা দাবি করেছিলেন, এনডিএ শরিক হিসেবে বিজেপির সঙ্গে জোট করেই কলকাতা পুরসভা নির্বাচনে লড়বে তাঁদের দল। এমনকি দিল্লিতে বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং সেখান থেকে সবুজ সংকেতও মিলেছে বলে দাবি করেছিলেন NCPI সাংসদ সুদীপ ভট্টাচার্য।

তবে বুধবার সেই দাবির সঙ্গে কার্যত দূরত্ব তৈরি করলেন শমীক। তাঁর কথায়, “বাংলার বিজেপি একাই লড়তে এবং কলকাতা ও হাওড়া পুরসভা নির্বাচনে জিততে সক্ষম।” বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি একাই লড়ে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর দাবি, দলের আদর্শের সঙ্গে কোনও রকম আপস করা হয়নি।

যদিও জোটের দরজা একেবারে বন্ধ করে দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা সতর্ক থেকেছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি। তিনি বলেন, জোট নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে দিল্লির দলীয় নেতৃত্ব।

NCPI-এর দাবি নিয়ে বিজেপির পাল্টা বক্তব্য

NCPI সাংসদ সুদীপ ভট্টাচার্য এর আগে দাবি করেছিলেন, কলকাতা পুরভোটে এনডিএ শরিক হিসেবে লড়ার বিষয়টি নিয়ে তাঁদের দলের আলোচনা হয়েছে এবং দিল্লির বিজেপি নেতৃত্বও তাতে সম্মতি জানিয়েছে।

NCPI সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারও বলেছিলেন, তাঁদের দল সবচেয়ে বড় এনডিএ শরিক হওয়ায় জোটসঙ্গীদের সঙ্গে সমন্বয় করেই পুরভোটে লড়াই করা হবে।

এই দাবি প্রসঙ্গে শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য, NCPI একটি নতুন দল এবং ওই দলের সাংসদরা আগে তৃণমূলের প্রতীকে নির্বাচনে লড়েছিলেন। তাঁরা এনডিএ-তে যোগ দিলেও রাজ্য বিজেপির সঙ্গে সেই সিদ্ধান্তের কোনও সম্পর্ক নেই বলেই কার্যত জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।

পুরভোটের আগে তৃণমূলের কিছু নেতা বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন কি না, সেই প্রশ্নেরও সরাসরি কোনও উত্তর দেননি শমীক। তাঁর মন্তব্য, “কে তাঁদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত, তা আমি জানি না।”

একাই লড়ার প্রস্তুতি তৃণমূলেরও

অন্যদিকে কলকাতা ও হাওড়া পুরভোটে তৃণমূল কংগ্রেসও একাই লড়তে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তাঁর দাবি, এখন ভোট হলে কলকাতা পুরসভায় তৃণমূলই বোর্ড গঠন করবে। সেই কারণেই বিজেপি ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশনের পথে গিয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর।

কুণালের দাবি, দল এখন সাংগঠনিক ভাবে আরও শক্তিশালী এবং মানুষের সমর্থনও তৃণমূলের দিকে ফিরছে। রাজ্য সরকারের প্রতি মানুষের অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলকে একাই পুরভোটের প্রস্তুতি নিতে বলেছেন বলে জানান কুণাল।

সব আসনে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি কংগ্রেসের

পুরভোটে কংগ্রেসও সব আসনে লড়াইয়ের প্রস্তুতি শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এখনও পর্যন্ত কোনও রাজনৈতিক দল জোটের প্রস্তাব নিয়ে কংগ্রেসের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি বলে দাবি শুভঙ্করের। তবে তাঁর প্রধান উদ্বেগ ওয়ার্ড ডিলিমিটেশন নিয়ে। তাঁর অভিযোগ, এই পুনর্বিন্যাস প্রক্রিয়ার কোনও যুক্তি নেই এবং এটি ‘অগণতান্ত্রিক’। বিজেপি নিজেদের জয়ের সম্ভাবনা অনুযায়ী ওয়ার্ডের সীমানা নির্ধারণের চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

ফলে কলকাতা ও হাওড়া পুরভোটের আগে বিজেপি, তৃণমূল ও কংগ্রেস—তিন দলই কার্যত একক ভাবে লড়াইয়ের প্রস্তুতির বার্তা দিয়েছে। NCPI-কে ঘিরে জোটের জল্পনা থাকলেও শমীকের বক্তব্যে আপাতত সেই সম্ভাবনায় জল পড়ল।

আরও খবর

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.