জলপাইগুড়ি: জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলের সাম্প্রতিক ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে রাজ্য স্কুলশিক্ষা দফতর। ঘটনায় প্রধান শিক্ষক এবং পড়ুয়া—দুই পক্ষের ভূমিকাকেই ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে মন্তব্য করেছে দফতর। ইতিমধ্যেই ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত করেছেন জলপাইগুড়ির জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক)। পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পর প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা দফতর।
ঘটনার সূত্রপাত শিক্ষক দিবস উপলক্ষে স্কুলে আয়োজিত খাওয়াদাওয়াকে কেন্দ্র করে। গত শনিবার ছিল শিক্ষক দিবস। সেই উপলক্ষে মঙ্গলবার স্কুলে পড়ুয়াদের নিয়ে খাওয়াদাওয়ার আয়োজন করেছিলেন শিক্ষকেরা। দশম শ্রেণির একদল ছাত্রের অভিযোগ, সেই আয়োজনে তাঁদের হিসাবের মধ্যে ধরা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে প্রথমে শিক্ষকদের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা।
অভিযোগ, এরপর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং প্রধানশিক্ষকের উপর চড়াও হয় কয়েক জন পড়ুয়া। ছাত্রদের মারধরে প্রধানশিক্ষকের কপাল ফেটে যায় বলে অভিযোগ। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন।
এই ঘটনার পরই নড়েচড়ে বসেছে স্কুলশিক্ষা দফতর। বর্তমান শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে প্রধান শিক্ষককে ৯ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ দিনের ছুটি মঞ্জুর করা হয়েছে।
একই সঙ্গে কোনও পড়ুয়ার প্রকৃত অভিযোগ থাকলে নিজের হাতে পরিস্থিতি তুলে না নিয়ে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক বা জেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানোর বার্তা দিয়েছে শিক্ষা দফতর। দফতরের বক্তব্য, অভিযোগের প্রতিকারের জন্য প্রশাসনিক এবং গ্রহণযোগ্য পদ্ধতিই অনুসরণ করতে হবে। কোনও ধরনের হঠকারী পদক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়।
১১ সেপ্টেম্বর স্কুলে যাবেন শিক্ষামন্ত্রী
ঘটনার পর আগামী ১১ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার সকাল ১১টায় জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলে যাবেন স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মণ। শুধু ওই স্কুলের পরিস্থিতিই নয়, স্থানীয় এলাকার বিভিন্ন স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষিকাদের সঙ্গেও তিনি বৈঠক করবেন।
প্রধান শিক্ষক ও পড়ুয়াদের মধ্যে এমন পরিস্থিতি কেন তৈরি হল, অভিযোগের সূত্র কী এবং ঘটনার নেপথ্যে ঠিক কী ছিল—সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হবে। পূর্ণাঙ্গ তদন্তের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ করবে শিক্ষা দফতর।
নবান্নেরও বিবৃতি
এই ঘটনায় নবান্নের তরফেও বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। সেখানে জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলের ঘটনাকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। জেলা স্কুল পরিদর্শক (মাধ্যমিক) তথা ডিআই ইতিমধ্যেই প্রাথমিক তদন্ত করেছেন বলেও জানানো হয়েছে।
নবান্নের বক্তব্য, প্রধান শিক্ষক এবং পড়ুয়া—দুই পক্ষের আচরণই দুর্ভাগ্যজনক। স্কুলশিক্ষা দফতর ঘটনাটিকে গুরুত্ব সহকারে দেখছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।
তবে মঙ্গলবারের ঘটনার পর স্কুলের তরফে এখনও পুলিশের কাছে কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি বলে জানা গিয়েছে।