নয়াদিল্লি: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে মঙ্গলবার দিল্লিতে মিছিল করলেন বিরোধী জোট INDIA-র সাংসদেরা। সংসদ ভবনের মকরদ্বার থেকে নির্বাচন সদন পর্যন্ত এই ‘সেভ ডেমোক্রেসি’ মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছিল। তবে কিছুটা এগোনোর পরই পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে মিছিল আটকে দেয়। এরপর রাস্তায় বসেই বিক্ষোভ দেখান বিরোধী সাংসদেরা।
পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী সকাল ১১টার দিকে মিছিল শুরু হয়। তাতে ছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা গান্ধী, রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খড়্গে, তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব-সহ বিরোধী জোটের একাধিক সাংসদ। The New Indian Express
মিছিল কিছুটা এগোনোর পর নীতি আয়োগের কাছে পুলিশ সাংসদদের আটকে দেয়। ব্যারিকেডের সামনে বসে পড়েন তাঁরা। মিছিল থেকে ‘ভোট চোর, গদি ছোড়’ স্লোগানও ওঠে। পরে সংসদ মার্গে ধর্নায় বসেন একাধিক সাংসদ।
কড়া নিরাপত্তা দিল্লিতে
বিরোধীদের মিছিল ঘিরে আগে থেকেই দিল্লির নিউ দিল্লি জেলায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল। সংসদ ভবন ও নির্বাচন কমিশনের দফতরের আশপাশে একাধিক স্তরের ব্যারিকেড বসানো হয়। পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যদেরও মোতায়েন করা হয়। দিল্লি পুলিশের বক্তব্য, নিউ দিল্লি জেলায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে এবং জমায়েতের অনুমতি নেই।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিছিলের সম্ভাব্য পথে পাঁচটিরও বেশি কোম্পানি আধাসামরিক বাহিনী এবং স্থানীয় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। গত কয়েক দিনের বিক্ষোভ ঘিরে একাধিক এফআইআরও হয়েছে এবং বেশ কয়েক জনকে গ্রেফতার ও বহু মানুষকে আটক করা হয়েছে।
SIR ও ফর্ম ৬ নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR এবং নতুন ভোটারদের নাম নথিভুক্তির ফর্ম ৬-এ পরিবর্তন নিয়ে বিরোধীদের আপত্তিই এই আন্দোলনের অন্যতম কারণ। সোমবার সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, পরিবর্তিত ফর্ম ৬ তারা অনুমোদন করেনি। ওই পরিবর্তন কে করেছিলেন এবং কে অনুমোদন করেছিলেন, তা জানতে নির্বাচন কমিশনের নথি খতিয়ে দেখার কথাও জানিয়েছে আদালত।
এই পর্যবেক্ষণের পরই মঙ্গলবারের মিছিলে বিরোধীরা আরও জোরালো ভাবে জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবি তোলে।
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে অভিযোগ করেন, সর্বজনীন ভোটাধিকারের অধিকার খর্ব করার চেষ্টা হচ্ছে। তিনি নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য বিরোধীদের রাজনৈতিক অবস্থান হিসেবে এসেছে; নির্বাচন কমিশন অবশ্য SIR-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলি নিয়ে কোনও বিভাজন বা একতরফা সিদ্ধান্তের অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তগুলি সর্বসম্মত ভাবেই নেওয়া হয়েছে।
তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও SIR-এ বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগ তুলে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সরব হন। তবে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের প্রক্রিয়া এখনও দাবি-আপত্তি ও যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে; বিরোধীদের অভিযোগকে চূড়ান্ত তথ্য হিসেবে দেখা হয়নি।
মিছিলে কংগ্রেসের পি চিদম্বরম, তৃণমূলের সৌগত রায় ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, এনসিপি (শরদচন্দ্র পওয়ার)-এর সুপ্রিয়া সুলে, আরজেডির মনোজ ঝা-সহ অন্য বিরোধী সাংসদেরাও ছিলেন।
সুপ্রিম কোর্টে ফর্ম ৬ এবং নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে মামলার শুনানি চলার মধ্যেই এই কর্মসূচি ঘিরে দিল্লিতে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়ল।