লক্ষ্মীপুজোর আগে সোনা ও রুপোর দামে বড়সড় পতন। টানা দ্বিতীয় দিনের দরপতনে স্বস্তি মিলতে পারে ক্রেতাদের। বিশেষ করে রুপোর দাম নেমে এসেছে প্রায় ১১ মাসের সর্বনিম্ন স্তরে। শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬-এ দেশীয় ফিউচার্স বাজারে (MCX) সোনার দাম কমেছে প্রায় ১ শতাংশ। অন্য দিকে, রুপোর দরও উল্লেখযোগ্য ভাবে পড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান ধাতুর উপর চাপ এবং অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধির জেরে মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার নিয়ে উদ্বেগ এই পতনের অন্যতম কারণ বলে বাজার বিশ্লেষকদের মত।
MCX-এ সোনা-রুপোর দর কত কমল?
২৩ অক্টোবরের বাজারের তথ্য অনুযায়ী, MCX-এ ডিসেম্বর ডেলিভারির সোনার ফিউচার্স দর লেনদেনের এক পর্যায়ে প্রায় ১.৪২ লক্ষ টাকা প্রতি ১০ গ্রামের আশপাশে ছিল। দিনের লেনদেনে দাম আরও নীচে নেমেছিল।
রুপোর ডিসেম্বর ফিউচার্সের দরও কমে প্রায় ১.৯৫ লক্ষ টাকা প্রতি কেজির আশপাশে পৌঁছয়। দিনের লেনদেনে রুপোর দাম প্রায় ১.৯৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নেমেছিল বলে বাজার সংক্রান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আগের দিনের তুলনায় রুপোর পতন ছিল সোনার তুলনায় বেশি।
কলকাতায় ২৪, ২২ ও ১৮ ক্যারেট সোনার দাম
২৩ অক্টোবর ২০২৬-এর কলকাতার খুচরো বাজারদরের তালিকা অনুযায়ী, সোনার দাম ছিল:
- ২৪ ক্যারেট সোনা: প্রতি গ্রাম ১৪,২৪৮ টাকা; প্রতি ১০ গ্রাম ১,৪২,৪৮০ টাকা। আগের দিনের তুলনায় প্রতি গ্রামে ১৯০ টাকা কম।
- ২২ ক্যারেট সোনা: প্রতি গ্রাম ১৩,০৬০ টাকা; প্রতি ১০ গ্রাম ১,৩০,৬০০ টাকা। আগের দিনের তুলনায় প্রতি গ্রামে ১৭৫ টাকা কম।
- ১৮ ক্যারেট সোনা: প্রতি গ্রাম ১০,৬৮৬ টাকা; প্রতি ১০ গ্রাম ১,০৬,৮৬০ টাকা। আগের দিনের তুলনায় প্রতি গ্রামে ১৪৩ টাকা কম।
এই দরগুলি ২৩ অক্টোবরের প্রকাশিত কলকাতা-ভিত্তিক খুচরো মূল্যতালিকা থেকে নেওয়া।
কলকাতায় রুপোর দাম কত?
২৩ অক্টোবরের খুচরো দর অনুযায়ী, কলকাতায় রুপোর দাম ছিল প্রতি গ্রাম ২২০ টাকা। অর্থাৎ প্রতি ১০ গ্রাম রুপোর দাম ২,২০০ টাকা এবং প্রতি কেজির দাম ২,২০,০০০ টাকা। আগের দিনের তুলনায় প্রতি গ্রামে ৫ টাকা বা প্রতি কেজিতে ৫,০০০ টাকা কমেছে।
এখানে মনে রাখতে হবে, MCX-এর ফিউচার্স দর ও খুচরো বাজারের দর এক নয়। গয়না কেনার ক্ষেত্রে জিএসটি, মজুরি এবং দোকানভেদে অন্যান্য খরচ যুক্ত হতে পারে।
কেন কমছে সোনা ও রুপোর দাম?
বাজার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এর ফলে সুদের হার দীর্ঘ সময় ধরে বেশি থাকতে পারে—এমন আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে সোনা ও রুপোর আকর্ষণে এর প্রভাব পড়তে পারে।
আন্তর্জাতিক বাজারেও মূল্যবান ধাতুর দাম কমেছে। ২৩ অক্টোবরের বাজার প্রতিবেদনে স্পট সোনার দর প্রতি আউন্স প্রায় ৪,০২৩ ডলারের কাছাকাছি ছিল। অন্য দিকে, স্পট রুপোর দাম নেমেছিল প্রতি আউন্স ৫৪ ডলারের নীচে।
সোনা-রুপোর দাম কি আরও কমবে?
আগামী দিনে সোনা ও রুপোর দাম আরও কমবে কি না, তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের গতিপ্রকৃতি, সুদের হার নিয়ে প্রত্যাশা, অপরিশোধিত তেলের দাম এবং বিনিয়োগকারীদের চাহিদার উপর মূল্যবান ধাতুর দর নির্ভর করবে।
লক্ষ্মীপুজোর আগে সোনা বা রুপো কেনার পরিকল্পনা থাকলে কেনার দিনের বাজারদর যাচাই করে নেওয়া ভালো। গয়না কেনার সময় হলমার্ক, ক্যারেট, মজুরি ও করের হিসাবও খেয়াল রাখা প্রয়োজন। এক দিনের দরপতন দেখেই ভবিষ্যতে দাম আরও কমবে বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়।