প্রথম পাতা খবর পুলিশের উদ্যোগেই নিমতলা ঘাটে নিরঞ্জন চোরবাগানের প্রতিমা, বিষণ্ণ পাড়াবাসী

পুলিশের উদ্যোগেই নিমতলা ঘাটে নিরঞ্জন চোরবাগানের প্রতিমা, বিষণ্ণ পাড়াবাসী

9 views
A+A-
Reset

চোরবাগানের দুর্গাপ্রতিমা নিরঞ্জন হল শনিবার বিকেলে। কলকাতার নিমতলা ঘাটে পুলিশের উদ্যোগেই সম্পন্ন হল নিরঞ্জনের গোটা প্রক্রিয়া। পুজো কমিটির কোনও সদস্যকে অবশ্য গোটা পর্বে দেখা যায়নি। প্রতিমা মণ্ডপ থেকে বার করে গঙ্গার ঘাটে নিয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে নিরঞ্জনের ব্যবস্থা—সবেতেই সক্রিয় ভূমিকা নিল পুলিশ। আর প্রতিমাকে বিদায় জানাতে গিয়ে আবেগে ভেঙে পড়লেন এলাকার বাসিন্দারা।

শুক্রবারই প্রতিমা বার করে আনার জন্য মণ্ডপের গেটের একাংশ কাটা হয়েছিল। শনিবার দুপুরে প্রতিমা বার করার তোড়জোড় শুরু হয়। নিরঞ্জন যাতে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, তার জন্য মোতায়েন করা হয়েছিল পুলিশবাহিনী। গেটের কাটা অংশ দিয়ে প্রতিমা বার করে এনে নামিয়ে রাখা হয়। সেখানে প্রতিমাকে মালা পরিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান স্থানীয়রা।

প্রায় ৩৬ জন মিলে প্রতিমাকে রাস্তা দিয়ে বার করে আনেন। এলাকার বহু মহিলা রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রতিমাকে প্রণাম করে বিদায় জানান। কিন্তু মণ্ডপ থেকে গঙ্গার ঘাটে প্রতিমাকে কী ভাবে নিয়ে যাওয়া হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো পুজো উদ্যোক্তা বা কমিটির কোনও সদস্য উপস্থিত ছিলেন না।

শেষ পর্যন্ত পুলিশই নিরঞ্জনের ব্যবস্থা করে। সিমলা ব্যায়াম সমিতির এক পুজো কর্মকর্তাকেও নিয়ে আসা হয়। প্রতিমা নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি লরি আনা হয়েছিল। দড়ি ও বাঁশের সাহায্যে প্রতিমাকে লরিতে তোলার চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। পরে পুলিশের উদ্যোগে লোহার কার্টের ব্যবস্থা করা হয়। সেই কার্টে প্রতিমাকে চাপিয়ে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ দিয়ে পুলিশি পাহারায় নিয়ে যাওয়া হয় নিমতলা ঘাটে। সেখানেই সম্পন্ন হয় নিরঞ্জন।

প্রতিমাকে বিদায় জানাতে গিয়ে চোখে জল পাড়াবাসীর

প্রতিমা নিরঞ্জনের সময় এলাকার বাসিন্দাদের চোখেমুখে ছিল বিষণ্ণতার ছাপ। এক বয়স্ক মহিলা হাতজোড় করে প্রতিমাকে প্রণাম করেন। চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ছিল জল। তিনি বলেন, এ বছর যা ঘটে গেল, এমন ঘটনা যেন আর কখনও না ঘটে। কত মানুষের মৃত্যু দেখতে হয়েছে, কত পরিবারের আলো নিভে গিয়েছে—সেই যন্ত্রণা যেন আর ফিরে না আসে।

এলাকার অন্য বাসিন্দারাও প্রতিমাকে বিদায় জানানোর সময় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। এক স্থানীয় বাসিন্দার কথায়, এখনও সেই চিৎকার ও মৃত্যুর দৃশ্য চোখের সামনে ভেসে উঠছে। ঈশ্বরের কাছে তাঁদের প্রার্থনা, এমন দিন যেন আর দেখতে না হয়।

পুজো কমিটির সদস্যদের দেখা না মিললেও পাড়ার বেশ কয়েক জন বাসিন্দা প্রতিমা নিরঞ্জনের সময় উপস্থিত ছিলেন। কয়েক জন মোমবাতি হাতে প্রতিমার আগে আগে হাঁটছিলেন। একটি ট্রাকের সামনে কালো ব্যানারে মৃত ও আহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়।

প্রতিমা নিরঞ্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হল চোরবাগানের দুর্গাপুজোর পর্ব। কিন্তু এ বছরের ঘটনাকে ঘিরে যে শোক ও স্মৃতি তৈরি হয়েছে, তা সহজে মুছে যাওয়ার নয়।

আরও খবর

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.