পঙ্কজ চট্টোপাধ্যায়
“এসো হে বৈশাখ এসো এসো…” কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আহ্বান জানিয়ে যায় বাংলার শুভ নববর্ষের আগমন বার্তা।
কিন্তু,প্রশ্ন হোল বাংলা নববর্ষের ইতিহাস কি?
বিভিন্ন মত এই ব্যাপারে আছে। সেই সব মতগুলিকে এক সুতোয় গাঁথলে আমরা জানতে পারি,যে বাংলা মাস বা বাংলা সন সৌরজগতের প্রেক্ষিতে বৈদিক যুগে শুরু হয়েছিল। বিভিন্ন নক্ষত্রের নামানুসারে বাংলা মাসের নাম করন করা হয়। বিশাখা থেকে বৈশাখ,জয়িস্থি থেকে জৈষ্ঠ্যমাস, পূর্বষাঢ়া থেকে আষাঢ়, শ্রবনা থেকে শ্রাবন,ভদ্রা থেকে ভাদ্র,অশ্বিনী থেকে আশ্বিন,কৃত্তিকা থেকে কার্ত্তিক,অগ্রহনী থেকে অগ্রহায়ণ, পুষ্যানক্ষত্র থেকে পৌষ,মঘা থেকে মাঘ,ফাল্গুনী থেকে ফাল্গুন,চিত্রা থেকে চৈত্র মাস।
খ্রীস্টপূর্ব সপ্তম অষ্টম শতকে বাংলা নববর্ষের সূচনা হোত অগ্রহায়ণ মাস থেকে।এই রীতি চলেছিল খ্রীষ্টিয় সপ্তম শতকের মাঝামাঝি অবিভক্ত অঙ্গ বঙ্গ কলিঙ্গের ( সেই সময়ের নাম ছিল গৌড়) সম্রাট শশাঙ্কের শাসনামল থেকে এবং সেন বংশের রাজত্বকাল অবধি।
পরবর্তীতে এদেশে মোগল শাসন ব্যবস্থা চলাকালীন ১৫৮৪ সালের ১৪ ই/১৫ ই এপ্রিল সম্রাট আকবর প্রচলন করেন বৈশাখের প্রথম দিনে নববর্ষের দিনটি।
সেই থেকে বৈশাখের প্রথম দিনটি সারা ভারতেই নববর্ষ হিসাবে বিভিন্ন নামে পালিত হয়। প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশে,শ্রীলঙ্কায়,নেপালে,ভুটানে,তিব্বতে,পাকিস্থানে,আফগানিস্তানে, মায়ানমারে,ইয়াঙ্গনে ১লা বৈশাখ নববর্ষ হিসাবে উদযাপিত হয়।
কবিগুরুর কথায় পুরানো যত কালিমা, সেই সব কিছু ধুয়ে যাক,মুছে যাক যত গ্লানি…সবার মনে মাধুরী মিশিয়ে সম্প্রীতির সহমর্মিতায় আমরা পালন করি শুভ নববর্ষের শুভ পয়লা বৈশাখ।
কাছে-দুরে সকলে ভালো থাকুন,শান্তিতে হোক পারস্পরিক সহাবস্থান।