Deprecated: Creation of dynamic property Penci_AMP_Post_Template::$ID is deprecated in /home/ndn4dljdt13e/public_html/newsonly24.com/wp-content/plugins/penci-soledad-amp/includes/class-amp-post-template.php on line 46

Deprecated: Creation of dynamic property Penci_AMP_Post_Template::$post is deprecated in /home/ndn4dljdt13e/public_html/newsonly24.com/wp-content/plugins/penci-soledad-amp/includes/class-amp-post-template.php on line 47
তুমি নব নব রূপে এসো প্রাণে - NewsOnly24

তুমি নব নব রূপে এসো প্রাণে

পঙ্কজ চট্টোপাধ্যায়

ধনী কামারনী বলতেন “ভষ্মমাখা ভোলনাথ ভষ্মেশ্বর”, আবার ধর্মদাসের মেয়ে প্রসন্ন ডাকতেন-” আমার গোপাল” বলে। কাজিপাড়ার রফিকুল,জব্বার,হামিদ মিয়ারা ভাবতেন তাদের নবীজি যেন তাদের সাথে ঘুরে বেড়ায়। আবার পাইনবাড়ির মেয়েরা,বোষ্টমপাড়ার মহিলারা ডাকে “রাধারানী” বলে ডাকতেন।সীতানাথের বাড়ির মেয়েরা ছিলেন পর্দানসীন,কিন্তু তারা তাকে বাড়ির মধ্যে ডেকে নিয়ে কীর্তন শুনতেন। রাজিয়া বিবি,আমিনা বিবি,শামসুল,রফিক, আরও কতজন তাদের ঘরে নিয়ে গিয়ে তার কাছ থেকে হাসান হোসেনের কাহিনি শোনেন,আহা সেই কাহিনী ঐ ছোট্ট গদাইয়ের মুখে শুনে,চোখের জল ধরে রাখা যায়না গো।ধরে রাখা যায়না।হাপুস নয়নে কাঁদতেন তারা।

আজকাল প্রায়শই গদাইয়ের কেমন যেন একটা ভাব সমাধি হয়।হরিবাসরে,শিবের গাজনে,মনসা ভাসানে,জুম্মাবারের নামাজের আসরে,বড়দিনের দিনে, কোথাও একটু ঠাকুর দেবতার নাম গান,আলোচনা হলেই হয় এরকম আমাদের গদাইয়ের।

এই আমাদের কামারপুকুরের গদাই–ক্ষুদিরাম চাটুজ্যের ছেলে গদাধর চাটুয্যে, রামকুমার চাটুয্যের ছোট ভাই গদাধর চাটুয্যে।পরবর্তীতে দক্ষিণেশ্বরে জানবাজারের রানী রাসমণীর প্রতিষ্ঠিত জগজ্জননী মা ভবতারিণীর সেবক,পুজক,সাধক, সকলের ছোটো ভটচাজ, বিশ্ববন্দিত শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব।

কি সুন্দর দুটি আয়ত উজ্জ্বল চোখ–যে চোখে শান্তি আর পবিত্র সরলতা।–মাথাভরা এলোমেলো একরাশ চুল–যে চুলে অনিন্দ্যসুন্দর আনন্দময় ঔদাসিন্য।মুখে অমিয় মধুর হাসি,যে হাসিতে অহেতুকী পরম করুণা। কণ্ঠস্বর যেন অমৃতনির্ঝর লালিত্যের প্রসন্নতায় ভরা। কথাবার্তায় এক গভীর নিবিড় অশেষ আশ্বাস। একবার দেখলেই ভালোবাসতে মন চায়। ইচ্ছেগুলো শতদলের মতো উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে। চোখ ফেরানো যায়না তার থেকে।ভালো কিছু আহার্য পেলে কেউ,তার ইচ্ছা জাগে মনে আহা একটু গদাইকে খাওয়াই। ইচ্ছে করে তার কথা শুনতে,তার কাছেই বসে থাকতে প্রাণ চায়।প্রাণ জুড়াতে চায়।

লেখাপড়ার সঙ্গে তার মোটেই ভাব ভালোবাসা নেই।কিন্তু জ্ঞানের মহাসাগর যেন। কিন্তু রামায়ন মহাভারত পড়তে দাও,সুর করে পড়বে। ধ্রুব প্রল্হাদের কাহিনী বলতে দাও, অনর্গল বলে যাবে,কারবালার দুঃখের ইতিহাস বলতে বলো,একটানা বলে যাবে।বলে যাবে বুদ্ধের কথা,যীশুর কথা,শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর কথা, ক্লান্তিহীন ভাবে।

পাঠশালা তার ভালো লাগেনা।ভালো লাগে উন্মুক্ত আকাশ,মাঠ, প্রান্তর। জানা অজানা,চেনা অচেনা মানুষ তার বড়ই প্রিয়। যা কিছু সুন্দর,যা কিছু পবিত্র,তার প্রতি তার মহা টান। গান গায়,নাচ করে,মুর্তি গড়ে,অজানা,অচেনাদের সাথে যেচে যেচেই আলাপ করে,সাধুদের আখড়ায়,ফকিরের দরগায়,তার অবারিত যাতায়াত।তার প্রাণের, মনের আরাম, প্রশান্তি।

সে যা বলে,সে যা শোনায়,তাই যেন শাশ্বত,চিরন্তন। শিল্পে,সঙ্গীতে,নৃত্যে সে এক অনির্বচনীয়কে উদঘাটিত করে দেয়। তার কথা তো সাহিত্য,কাব্যগাথা,সাহিত্যের,কাব্যগাথার সারাংশ,সারবিন্দু,কেন্দ্রস্থল।

জগৎ এসে মিশে যাচ্ছে তার কাছে,বিভিন্নধারার বহমানতা এক মোহনায় মিলেমিশে একাকার হয়ে যাচ্ছে,হয়ে যাবে তার নামে,তার বেদীতলে। শ্রী রামকৃষ্ণ শরণম্ শরণ্যে..।

“আমাকে রসে বশে রাখিস মা,আমাকে শুকনো সন্ন্যেসী করিস নে”। এই প্রার্থনাই একদিন করেছিলেন গদাধর। নিজের জন্যে? না না, নিজের জন্যে নয়,আপামর সাধারণ মানুষের জন্যে।যুগে যুগে সাধারণ আটপৌরে মানুষ তার সবকিছু ভালোমন্দ নিয়ে জীবন যাপন করুক,ক্ষতি নেই,সব কিছু করার পরে,দিনান্তে একবার “মা,মা-গো..” বলে ডাকুক।মা ঠিক সেই ডাকে সন্তানের কাছে আসবেন।তিনি যে মা,তিনি তো সকলের মা,সন্তানের প্রতি টান সেতো মায়ের নাড়ির টান। সে কি এক জনমের টান গো? সে তো জন্ম জন্মান্তরের টান গো।মাধ্যাকর্ষণের চেয়েও অনেক অনেক বেশী শক্তিশালী সেই আকর্ষণ, সেই টান।
তিনি বলছেন,আমাকে রসে রাখিস,আবার বশেও রাখিস।আমাকে উচ্ছ্বাস দে,আবার সঙ্গে সঙ্গে সংযমও দে। ভাবের সঙ্গে সঙ্গে রূপ-কেও বিকশিত কর মা। আমি তোমার কবি হবো।তুমি যদি আমার আদি দেবী, আমিও তোমার আদি কবি। আমি তোমার মুর্তি গড়ি,আমার অনুভবে চেতনায় তোমার উপিস্থিতির সামগ্রী দিয়েই তোমায় গড়ি। তোমার কথা,তোমার গান,তোমার অক্ষর,তোমার ধ্যান,তোমার প্রেম,তোমার স্নেহ,তোমার আশ্রয়, তোমার প্রলয়,তোমার লালন,তোমার যাপন,সবই তো তোমার শুধুই আমার জন্য,তোমার এই সৃষ্টির জন্য।যে সৃষ্টিকে তুমি স্তন্য দাও,সেই সৃষ্টিকে তুমি অন্ন দাও,সেই সৃষ্টিকে তুমি অন্তিমে ঠাঁই দাও তোমার কোলে। এই তো তোমার প্রেম ওগো,সেই তো তোমার ভালোবাসা।যেথায় আমার বিশ্বমায়ের, আমার বিশ্বময়ীর আঁচলখানি পাতা। আমার জন্ম জন্মান্তরের জন্ম,যাপন,আর অবসানের ইতিবৃত্ত রচনা করা হয়ে আছে অনন্তকাল।

এই অনুভব জাগ্রত হোক অন্তরে অন্তরে। পরমপুরুষ শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব তাই নব নব রূপে প্রতিভাত হয়ে ওঠেন,হয়ে উঠুন আমাদের নিত্যনৈমিত্তিক প্রাত্যহিক জীবনে।
তাকে গ্রহণ করাই আমাদের একমাত্র পথ এবং পাথেয় হোক সর্বান্তকরনে। এই প্রার্থনা রেখে গেলাম আজকের রবিপাঠ-এ।

Related posts

অমরত্ব রয়ে গেল আপনার জন্য, ধর্মেন্দ্র সাহাব, সাত দশকের উজ্জ্বল নক্ষত্রের পতন

অলিখিত ইতিহাসের নীরব অধ্যায়ের একটি পৃষ্ঠা

লোকসঙ্গীতের অনির্বাণ আলো আব্বাসউদ্দীন আহমদ: জন্মের ১২৫ বছরে ফিরে দেখা