অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-এর মৃত্যুর প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকাল থেকে কার্যত থমকে গেল টালিগঞ্জের স্টুডিওপাড়া। শিল্পী ও কলাকুশলীদের নিরাপত্তার দাবিতে রবিবার সন্ধ্যায় বৈঠকে বসে আর্টিস্ট ফোরাম, ফেডারেশন, ইম্পা এবং প্রযোজকদের সংগঠন। সেখানেই সম্মিলিতভাবে কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এই সিদ্ধান্তে প্রায় সমস্ত মহল সমর্থন জানালেও সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন দিন আনি দিন খাই কলাকুশলীরা। এই পরিস্থিতিতেই মানবিক মুখ দেখালেন অভিনেতা জীতু কামাল।
সোমবার রাতে নিজের ধারাবাহিক ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’-এর শুটিং ফ্লোরে দাঁড়িয়ে জীতু ঘোষণা করেন, কর্মবিরতির যে ক’দিন শুটিং বন্ধ থাকবে, সেই সময়ের পারিশ্রমিক তিনি নিজের পকেট থেকে দেবেন। তাঁর এই উদ্যোগে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন সিরিয়ালের টেকনিশিয়ানরা।
সংশ্লিষ্ট ইউনিটের কয়েকজন কলাকুশলী সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও বার্তায় জানান, “এই প্রথমবার কোনও অভিনেতা আমাদের কথা ভেবে এমন পদক্ষেপ করলেন।”
জীতুর কথায়, “আমি খাব, আর আমার ইউনিট অভুক্ত থাকবে—এটা হতে পারে না। আমি কুবেরের সন্তান নই, কিন্তু আমার বাবা-মা শিখিয়েছেন, পাশের মানুষ বিপদে থাকলে পাশে দাঁড়াতে হয়।”
উল্লেখ্য, গত শনিবার ‘জাস্টিস ফর রাহুল’ আন্দোলনেও সরব হয়েছিলেন জীতু কামাল। রাহুলের ছবির পাশে নিজের ছবি রেখে মালা পরিয়ে প্রতীকী প্রতিবাদ জানান তিনি, যা ঘিরে বিতর্কও তৈরি হয়।
তাঁর সহ-অভিনেতা অভ্রজিৎ চক্রবর্তী সোশ্যাল মিডিয়ায় নাম না করে সেই প্রতিবাদের সমালোচনা করেন। পাল্টা জবাব দিতে ছাড়েননি জীতুও। ফ্লোরে মদ্যপ অবস্থায় প্রবেশের অভিযোগ তোলেন তিনি সহ-অভিনেতার বিরুদ্ধে। সব মিলিয়ে, রাহুলের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে টলিউডে যেমন প্রতিবাদ ও কর্মবিরতির আবহ তৈরি হয়েছে, তেমনই সেই সংকটের মধ্যেই কলাকুশলীদের পাশে দাঁড়িয়ে এক নজির গড়লেন জীতু কামাল।