উত্তরবঙ্গ: প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে আজ, বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। শেখ হাসিনা পরবর্তী সময়ে মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে এই প্রথম দেশে ভোট হচ্ছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনও রকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বুধ এবং বৃহস্পতিবার—টানা দু’দিন ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত বাণিজ্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুই দেশের সরকার।
থমকে গেছে বাণিজ্যের চাকা: সীমান্ত বন্ধ থাকার সরাসরি প্রভাব পড়েছে দুই দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে। প্রতিদিন ফুলবাড়ি, হিলি বা পেট্রাপোলের মতো সীমান্ত দিয়ে কয়েকশো পণ্যবাহী ট্রাক বাংলাদেশে যাতায়াত করে। কিন্তু গত দু’দিন ধরে সেই যাতায়াত সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। রফতানিকারকদের একাংশের দাবি, এর ফলে কোটি কোটি টাকার লেনদেন থমকে গেছে। সীমান্তের দুই ধারের দোকানপাটও নিরাপত্তার কারণে বন্ধ রাখা হয়েছে।
নিরাপত্তায় কড়াকড়ি: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রে খবর, নির্বাচনের কারণে সীমান্ত এলাকায় বিএসএফ (BSF)-এর নজরদারি বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত জওয়ান। নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ড্রোন ও আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যও নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের পরিস্থিতি যাতে সীমান্ত পেরিয়ে এপাড়ে প্রভাব না ফেলে, সেদিকেই বিশেষ নজর দিচ্ছে দিল্লি।
স্থায়ী সরকারের আশায় ব্যবসায়ীরা: দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের টালমাটাল পরিস্থিতির কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা চলছে বলে অভিযোগ রফতানিকারকদের। ফুলবাড়ি সীমান্তের রফতানিকারী শুভঙ্কর নস্করের কথায়, “আমরা চাই বাংলাদেশে একটি স্থায়ী সরকার আসুক। সরকার স্থায়ী হলে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তবেই দুই দেশের বাণিজ্যে পুরনো ছন্দ ফিরে আসবে।”
উল্লেখ্য, গত বছর আগস্ট মাসে শেখ হাসিনা গদিচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্যে যে ধাক্কা লেগেছিল, এই নির্বাচনের পর তার পুনরুদ্ধার হয় কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে দুই দেশের ব্যবসায়ী মহল।